ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পিরোজপুরে প্রতিদিন সাড়ে ৬ হাজার মণ মুড়ি উৎপাদন

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৩২, ৭ মার্চ ২০২৬
পিরোজপুরে প্রতিদিন সাড়ে ৬ হাজার মণ মুড়ি উৎপাদন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রমজান এলেই রোজা ও ইফতারের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকে মুড়ি। আর এ কারণেই পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে বেড়েছে মুড়ির চাহিদা। চাহিদা বৃদ্ধির ফলে জেলার মুড়ি উৎপাদনকারী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা এখন দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দক্ষিণাঞ্চলে মুড়ি উৎপাদনে পিরোজপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা হিসেবে পরিচিত। এখানকার হাতে ভাজা মুড়ি কেমিক্যালমুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় পিরোজপুর ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলোতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাটে মুড়ি উৎপাদন কারখানায় ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। 

ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন ধরনের ধান থেকে মুড়ি তৈরি হলেও মোটা ও চাপসাই ধানের মুড়িই সবচেয়ে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর কদর বেশি।

Advertisement

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার মণ ধানের মুড়ি উৎপাদিত হলেও বর্তমানে তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মণে দাঁড়িয়েছে। এক মণ ধান থেকে গড়ে ২৪ কেজি মুড়ি উৎপাদন হয়।

বর্তমানে মেশিনে ভাজা মুড়ির পাইকারি মূল্য প্রতি কেজি ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। অন্যদিকে হাতে ভাজা মুড়ির পাইকারি মূল্য ১০৮ থেকে ১১০ টাকা এবং খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়।

রমজান উপলক্ষে মুড়ির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মুড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। 

ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে মুড়ি তৈরিতে সার বা কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লবণপানি দিয়ে মুড়ি তৈরি করা হয়। ফলে মুড়ির মান ভালো থাকায় পিরোজপুর ছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এর চাহিদা রয়েছে।

জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট এলাকায় মুড়ি উৎপাদন কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রমজানকে কেন্দ্র করে মুড়ি উৎপাদন শ্রমিকেরা ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ চাল সিদ্ধ করছে, কেউ চালে লবণ মিশাচ্ছে, আবার কেউ উৎপাদিত মুড়ি বিভিন্ন এলাকায় বাজারজাত করার জন্য বস্তা ভর্তি করছে। 

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজানকে কেন্দ্র করে সাধারণ সময়ের থেকে চার গুণ মুড়ির চাহিদা রয়েছে আশেপাশের এলাকায়। এই কারখানায় প্রায় ২০ জন শ্রমিক কাজ করলেও চাহিদা অনুযায়ী মুড়ি উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। শ্রমিক সংকট না থাকলে এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি করলে হয়তো এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

মুড়ি উৎপাদন কারখানার মালিক আলি আকবর খান বলেন, এখানকার মুড়ি পিরোজপুরসহ বরিশাল বিভাগের সুনাম রয়েছে। এর অন্যতম কারণ হয়েছে এই মুড়িতে কোনোরকম সার, কীটনাশক বা কোনো কেমিক্যাল দিয়ে মুড়ি উৎপাদন করা হয় না। এ কারণেই এই মুড়ির চাহিদা সবথেকে বেশি। কারখানায় বর্তমানে ২০ জন শ্রমিক কাজ করলেও চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। এখানকার মুড়ি ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, কাউখালী, নেছারাবাদসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় চলে যায়। পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত মুড়ি কিনে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে বিক্রি করে। 

মুড়ি কারখানার শ্রমিক লিয়াকত আলী বলেন, রমজান উপলক্ষে দিন-রাত পরিশ্রম করি। এই কারখানায় বর্তমানে ২৪ ঘণ্টা মুড়ি উৎপাদন হয়। এত উৎপাদন করেও চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করা যায় না, কারণ হলো শ্রমিক সংকট। এখানে যদি আরো বেশি শ্রমিক থাকতো তাহলে আমরা আরো বেশি মুড়ি উৎপাদন করতে পারতাম। 

শ্রমিক সোহাগ রানা বলেন, মুড়ি উৎপাদনের জন্য চালের সঙ্গে লবণ মিশাতে হয়, এরপরে চালটা ভালো করে আগুনে ভাজতে হয়। এরপর মুড়ির উৎপাদনের জন্য চাল দিতে হয়। এরপরই তৈরি হয় কেমিক্যালমুক্ত সুস্বাদু মুড়ি। রমজান উপলক্ষে এই মুড়ির চাহিদা সব থেকে বেশি।

পিরোজপুর জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহসানুল কবির বলেন, মুড়ি উৎপাদনে যাতে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি এবং ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতার পরামর্শ দিয়ে আসছে পিরোজপুর জেলা ব্যবসায়ী সমিতি।

জেলায় প্রায় ২০টি মুড়ি মিল ও শতাধিক ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ হাজার মণ ধানের মুড়ি উৎপাদন করছেন। রমজানজুড়ে এই চাহিদা আরো বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!