ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বরিশালে সরকারি গুদামে ধান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৩১, ৩ জুন ২০২৬
বরিশালে সরকারি গুদামে ধান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
ফাইল ছবি

চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমকে ঘিরে বরিশালের বাবুগঞ্জে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত ভালো মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে খোদ কৃষকেরাই অভিযোগ করেছেন।

চলতি অর্থবছরে বাবুগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামের জন্য ৩৬৯ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২০ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এবার সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা। বর্তমান বাজারদরের তুলনায় সরকারি এই দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ কৃষকদের মধ্যে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির ব্যাপক আগ্রহ ছিল।

Advertisement

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাবুগঞ্জে ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৭৫Payload মেট্রিক টন। এই বিপুল উৎপাদন থেকে মাত্র ৩৬৯ মেট্রিক টন ধান সরকারি ক্রয় কর্মসূচির আওতায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে স্থানীয় কৃষকদের মূল অভিযোগ হলো, সরকারি খাদ্য গুদামে সরাসরি সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ না করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সরবরাহ করা হচ্ছে। কাগজে-কলমে প্রকৃত কৃষকদের নাম ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীরাই ধান সরবরাহের এই বড় সুবিধাটি ভোগ করছেন।

সরেজমিনে উপজেলা খাদ্য গুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গুদামের ভেতর ও আশপাশে বিপুল পরিমাণ ধান বস্তাবন্দি অবস্থায় রোদে শুকানো হচ্ছে এবং শ্রমিকরা ধান বস্তায় ভরা ও পরিবহনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব ধান সম্পূর্ণ একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে সরকারি গুদামে ঢুকছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি মূল্য বেশি পাওয়ায় তারা গুদামে ধান বিক্রি করতে চাইলেও নানা জটিলতা ও প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে সুযোগ পাননি। প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে ভুয়া কার্ডধারীদের নাম ব্যবহার করে অন্যরা এই ধান সরবরাহ করছে। এমনকি অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষক তালিকায় এমন কিছু ব্যক্তির নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যারা সরাসরি কৃষিকাজের সাথে মোটেও যুক্ত নন। ফলে এই ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন জানান, এ পর্যন্ত ৯ টন ধান সরকারিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বাকি ধান সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুসারেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে দাবি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো অনিয়মের বিষয় আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

অন্যদিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা জানান, ‘সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!