চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের নিখোঁজ ভ্যানচালক রাফিনের (২০) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর শুক্রবার গভীর রাতে সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার একটি খাল থেকে তাঁর ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাফিন চিলাভালকী গ্রামের সৌদি প্রবাসী আক্তার হোসেনের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি মোবাইল ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রাফিন। স্বজনদের ধারণা, ফোনের ওপাশ থেকে তাঁকে পাশের পাইকপাড়া গ্রামের একটি সেতুর কাছে যেতে বলা হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের দাবি, নিখোঁজের কিছু সময় পর রাফিন তাঁর দাদির ফোনে যোগাযোগ করে জানান যে, তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১২ লাখ টাকা দাবি করছে অপহরণকারীরা। এই ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
.png)
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাফিনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় কুতুবপুর এলাকার একটি খালে এক যুবকের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে কুতুবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা গভীর রাতে নদী থেকে ক্ষতবিক্ষত ও অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করেন। শনিবার সকালে রাফিনের স্বজনরা এসে তাঁর পরনের জিন্স প্যান্ট দেখে লাশটি শনাক্ত করেন।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি রাফিনের বলে তাঁর পরিবার দাবি করেছে। তবে পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত চলছে।