ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চাঁদপুরে মাছঘাটে নেই ইলিশ, হতাশ ক্রেতা-বিক্রেতা

মাজহারুল ইসলাম অনিক, চাঁদপুর 
প্রকাশিত: ১১:২৭, ২৮ জুন ২০২৬
চাঁদপুরে মাছঘাটে নেই ইলিশ, হতাশ ক্রেতা-বিক্রেতা
চাঁদপুর মাছঘাট। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’ নামে ব্যান্ডিং চাঁদপুর জেলা। রয়েছে এই জেলার ইলিশের সুনাম। চাঁদপুরে দেখা দিয়েছে ইলিশ সংকট। এর প্রভাব বেশি পড়ছে ইলিশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ আড়ত বড় স্টেশন মাছ ঘাটে। ইলিশের আমদানি কম থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। স্বল্প সংখ্যক মাছ আমদানি হলেও দাম অনেক চড়া। যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। স্থানীয় পদ্মা-মেঘনায় চলছে মাছের আকাল। তবে মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, বৃষ্টি বাড়লেই ধরা পড়বে ইলিশ।

রোববার (২৮ জুন) সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ইলিশের মৌসুমে চাঁদপুর মাছঘাটে ইলিশ নেই। নদীতে মাছ না পেয়ে জেলেরা ফিরছেন খালি হাতে। এছাড়া সাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীর ইলিশও চাঁদপুর মাছঘাটে তেমন আসছে না। আড়তগুলোর শ্রমিকরা পল্টুন ও ঘাটে অলস সময় কাটাচ্ছেন। ক্রেতা, মৎস্য ব্যবসায়ীর সংখ্যাও খুব কম। মাত্র কয়েকটি আড়তে বসে আছেন কর্মচারীরা। সামনে অল্প মাছ নিয়ে বিক্রির জন্য বসে আছেন খুচরা বিক্রেতারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Advertisement

ফরিদগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা ক্রেতা রফিক বলেন, চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকি। মাঝে মাঝে বাড়িতে আসলে ঢাকায় যাওয়ার সময় ইলিশ নিয়ে যাই। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মাছের দাম দ্বিগুন। কিন্তু দাম বেশি থাকায় মাছ কিনতে পারলাম না।

চাঁদপুর মাছঘাট।সদর উপজেলার আনন্দ বাজার এলাকার জেলে সফিক মাঝি জানান, নদীতে মাছ নেই। খরচের টাকারও মাছ পাই না। অনেকে জাল না বাইয়া এখন অন্য কাম করে। 

ইলিশের আড়তদার সোহেল বেপারী বলেন, ঘাটে মাছ কম থাকার কারণে দাম একটু বেশি। যদি মাছের সরবরাহ বাড়ে তাহলে দাম কমতে পারে।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার বলেন, ইলিশের মৌসুমে মাছঘাটে মাছ কম। নদীতেও মাছ নেই। জেলেরা নদীতে মাছ না পেয়ে হতাশ। সারাদিনে ঘাটে মাত্র ৫-৭ মণ ইলিশ সরবরাহ হয়ে থাকে। ক্রেতাও কম। তবে ইলিশ সরবরাহ বাড়লে দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা গত অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। আমাদের প্রত্যাশা এ বছর ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু এবার বৃষ্টি অনেক কম, তাই ইলিশ ধরা পড়ছে না। বৃষ্টি হলে ইলিশ পাবে।

চাঁদপুর মাছঘাট।তিনি আরও বলেন, মেঘনার মোহনায় বালুচর বেড়ে যাওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। পানি দূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নদীর পানির গুণগত মান এবং অক্সিজেন লেভেল কমে যাচ্ছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ইলিশের প্রজনন ও বৃদ্ধির জন্য প্রতিকূল। উজানে বাঁধ ও ব্যারাজের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও লবণাক্ততার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা ইলিশের পরিমাণকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: চাঁদপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!