ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির সঙ্গে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

এম. মঈন উদ্দীন, রাঙামাটি
প্রকাশিত: ১১:৪৭, ৯ জুলাই ২০২৬
পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির সঙ্গে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদ ও কর্ণফুলী নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রাঙামাটির সঙ্গে চট্টগ্রাম এবং খাগড়াছড়ি জেলার সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বরকল, বাঘাইছড়ি, লংগদু, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও রাজস্থলী উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বাড়ার কারণে এসব এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগও এখন বন্ধ। এছাড়া মাইনী নদীর পানি উপচে পড়ায় লংগদু উপজেলার সঙ্গে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

Advertisement

বাঘাইছড়ি উপজেলার মাচালং এলাকা মাইনী নদীর পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাজেক ভ্যালির সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সাজেকে অন্তত ৬০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। এদিকে বাঘাইছড়ির পশ্চিম লাইল্যাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে লক্ষী বিলাশ চাকমা (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে পড়ারও খবর পাওয়া গেছে। সাজেক কটেজ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগের কারণে আটকা পড়া পর্যটকদের কাছ থেকে আপাতত কোনো রুম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। এর আগে গত ৭ জুলাই পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাজেক ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার কেংড়াছড়ি ও মহালছড়ি কলেজ সড়কে পানি ওঠায় রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম রুটেও যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে মোটর মালিক সমিতি।

রাঙামাটি জেলা সদর ও কাপ্তাই উপজেলার বেশ কিছু পয়েন্টে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সড়ক বিভাগের কর্মীরা মাটি সরিয়ে নেওয়ায় জেলা শহরের ভেতরের যোগাযোগ সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে পাহাড় ধসে দুই শিশু আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙামাটি পৌর এলাকায় ১১টিসহ পুরো জেলায় ২১২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে জেলা প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে শতাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে হলেও ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে।

এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে বর্তমানে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। হ্রদের পানি এখন ৮১.৩১ ফুট মিনস সি লেভেলে রয়েছে। বৃষ্টিপাত এভাবে অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ২৩০ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এ আর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!