শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীন প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুণ্ডি এলাকার জয়পুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৫২/১-এস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর মেঘনা ক্যাম্পের সদস্যরা নদীপথে সাঁতার কেটে আট জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন। বিজিবির টহলদল বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে সীমান্তে অবস্থান নেয় এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়।
.png)
বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের নিয়ে নদীপথে ভারতের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ফলে পুশইনের চেষ্টা সফল হয়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আট জনের মধ্যে দুজন পুরুষ, চারজন নারী ও দুজন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
এর আগেও একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে পুশইনের অভিযোগে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। চলতি জুন মাসে ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে লোকজন প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এর মধ্যে ১২ জুন নারী ও শিশুসহ ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। একই রাতে বিলগাতুয়া ও জয়পুর সীমান্ত দিয়েও আরও ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৪ জুন চল্লিশপাড়া সীমান্ত দিয়ে একজন এবং ২৫ জুন মুন্সিগঞ্জ ঘাট সীমান্ত দিয়ে আরও একজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এসব ঘটনায় বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এর আগে ১২ জুন দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও টহলরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন এবং পরে তারা ভারতীয় সীমান্তে ফিরে যান।
সীমান্তে বাড়ছে সতর্কতা
সীমান্তে পুশইনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ৪৭ বিজিবির দায়িত্বাধীন কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনা বেড়েছে। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশু ও অন্যান্য ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজিবি বলছে, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। কুষ্টিয়ার সর্বশেষ ঘটনায়ও দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আট ব্যক্তির বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকানো হয়েছে।