শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে তিন্দু ইউনিয়নের রাজা পাথর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ পর্যটক মো. জাওয়াদ উল ইসলাম বাড়ি ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকায়।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
.png)
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে আলীকদম-থানচি সড়কের ২৩ কিলোমিটার এলাকা দিয়ে নেমে ১৩ জন পর্যটক তিন্দু বাজারে পৌঁছান। পরে স্থানীয় গাইড গর্জেন ত্রিপুরা তাদের গ্রহণ করেন। বিকেলে তিন্দু ঘাট থেকে দুটি নৌকায় করে তারা রেমাক্রির উদ্দেশে যাত্রা করেন। একটি নৌকায় ছয়জন এবং অন্যটিতে সাতজন পর্যটক ছিলেন।
রেমাক্রির পথে তিন্দু বড় পাথর (রাজাপাথর) এলাকায় পৌঁছালে সাঙ্গু নদীর তীব্র স্রোতে ছয়জন আরোহী থাকা একটি নৌকা ডুবে যায়। এ সময় পাঁচজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও একজন পর্যটক নিখোঁজ হন। তাকে উদ্ধারে স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জু্তুরাং ত্রিপুরা নামে এক পর্যটক গাইড বলেন, দুর্ঘটনা খবর পাওয়ার পর থানচি নিবন্ধন তালিকায় খোঁজ নিয়ে দেখলাম তারা নিবন্ধন করে যায়নি। তারা তিন্দু হয়ে ঢুকেছেন। তবে থানচি থেকে দুজন গাইড নিয়ে গেছে শুনেছি।
থানচি গাইড সভাপতি জওয়াই প্রু বলেন, ১৩ জনের একটি পর্যটকের দল ২১ কিলোমিটার হয়ে তিন্দুতে প্রবেশ করে। পরে সেখান থেকে ঝর্ণার উদ্যেশে যাওয়ার সময় রাজা পাথর এলাকায় নৌকা ডুবে গিয়ে এক পর্যটক নিখোঁজ হয়ে যায়। অনান্যরা নিখোঁজ হওয়ার যুবককে উদ্ধার চালাচ্ছে।
থানচি নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাজা পাথর এলাকায় নৌকা ডুবে এক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছে। তাকে উদ্ধারে জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে বলা আছে। তাদেরকে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে পাঠাব।
তিনি বলেন, অনিবন্ধিত কোনো পর্যটক যাতে পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য প্রশাসন থেকে শুরু করে গাইডদের নির্দেশনা দেয়া আছে। কিন্তু পর্যটকরা ফাঁকি দিয়ে ২১ কিলোমিটার থেকে প্রবেশ করে তিন্দু হয়ে বেড়াতে যায়। আর কোনো দুর্ঘটনায় ঘটলে এর দায় প্রশাসনের ওপর এসে পড়ে।
উল্লেখ, থানচি উপজেলা সদর থেকে তিন্দুমুখের দূরত্ব আনুমানিক ১২ কিলোমিটার। পর্যটকরা এক সময় তিন্দুতে শুধুমাত্র সরাসরি নৌপথে করে যেত। পরে থানচি-আলীকদম দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ায় এখন অনেক পর্যটক নিবন্ধন না করেই তিন্দু, রেমাক্রি এবং নাফাকুম জলপ্রপাত ভ্রমণে যান।