পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক গৃহবধূকে (২৭) যৌন নির্যাতনের সময় ফারুক হোসেন প্যাদা (৪০) নামের জামায়াতের এক স্থানীয় নেতাকে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ফারুক হোসেন ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
.png)
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত নেতা ফারুক ওই গৃহবধূকে বিভিন্ন ধরনের লোভ দেখিয়ে আসছিলেন। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে তিনি ওই গৃহবধূর বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন। বুধবার রাতে গৃহবধূর ঘরে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত ফারুক হোসেন। তার ভাষ্য, পূর্ব শত্রুতার জেরে সাইদুল ও পারভেজসহ ৪-৫ জন তাকে মারধর করেছে এবং তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। তার দাবি, ওই নারীর সঙ্গে কোনো অনৈতিক সম্পর্ক ছিল না, বরং বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর শাশুড়ি জাহানারা বেগম জানিয়েছেন, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে তার পুত্রবধূকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে পূর্বে এলাকায় সালিশ-বৈঠকও হয়েছিল, কিন্তু এরপরও সে অপতৎপরতা চালিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, মারধরের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।