গত ১ জুলাই করা ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুলাই খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফিফ-আল-মাহমুদ ভূঁঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট আরও দুটি দপ্তরে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগকারীরা হলেন নওগাঁ শহরের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম সোহাগ, মো. সবুজ হোসেন, আলম হোসেন, আব্দুর রশিদ ও আব্দুর রকিব।
.png)
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ওএমএস কার্যক্রমে গম পেষাইয়ের জন্য বেসরকারি ময়দামিল হিসেবে মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিল তালিকাভুক্ত রয়েছে। মিলটির অফিস শহরের ডাবপট্টি এলাকায় এবং পেষাই কারখানা আরজি-নওগাঁ এলাকায় অবস্থিত।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় মিলটি প্রতি মাসে গুদাম থেকে প্রায় ১৪৫ টন সরকারি বরাদ্দের গম সংগ্রহ করে। তবে ওই গম ভালো মানের হওয়ায় তা অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে অন্য উৎস থেকে নিম্নমানের গম সংগ্রহ করে পেষাইয়ের মাধ্যমে আটা তৈরি করা হয়। সেই আটা ওএমএসের আওতায় নির্ধারিত দামে বিক্রির জন্য ডিলারদের সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আটার মান নিয়ে মিল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে অভিযোগকারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরেজমিনে আরজি-নওগাঁ এলাকায় মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিলে গিয়ে দেখা যায়, খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ করা চটের বস্তায় থাকা গম মিলে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এর পাশেই প্লাস্টিকের বস্তায় অন্য গম রাখা ছিল। সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি গুদাম থেকে সরবরাহ করা গম তুলনামূলক ভালো মানের হলেও আলাদাভাবে রাখা অন্য গমের কিছু অংশ কালচে ও নিম্নমানের বলে মনে হয়েছে।
অভিযোগকারী শহিদুল ইসলাম সোহাগ ও মো. সবুজ হোসেন বলেন, মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিল থেকে সরবরাহ করা আটার মান নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেসার্স মদিনা ফ্লাওয়ার মিলের মালিকপক্ষের আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে চালানের মাধ্যমে প্রতি কেজি ১৯ টাকা দরে গম সংগ্রহ করা হয়। এরপর পেষাই করে প্রতি কেজি ২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ওএমএস ডিলারদের কাছে সরবরাহ করা হয়।
অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, গুদাম থেকে সরবরাহ করা গমের কিছুটা সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসার জন্য আমদানি করা গম ভালো মানের এবং দামও বেশি। তাই সরকারি গম বাজারে বিক্রি করার কোনো কারণ নেই। তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান। তবে মাঝেমধ্যে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এসে মিল পরিদর্শন করেন বলে দাবি করেন তিনি।
নওগাঁ সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, সদর উপজেলায় ওএমএসের ১২ জন ডিলার রয়েছেন। এর মধ্যে একটি পয়েন্ট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। খোলা বাজারে ডিলারের মাধ্যমে প্রতিদিন ২৪ টাকা কেজি দরে ৭৫০ কেজি আটা বিক্রি করা হয়। গম পেষাইয়ের জন্য তালিকাভুক্ত ডিলার রয়েছেন দুজন। ডিলাররা ডিও (চালান) দিলে গুদাম থেকে তাদের গম সরবরাহ করা হয়।
আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, কী ধরনের আটা সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দেখার দায়িত্ব তার নয়। তবে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বুধবার নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফরহাদ খন্দকারের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
অন্যদিকে, রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম কায়ছার আলী বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে তার কাছে কোনো চিঠি আসেনি।