চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদ পতন আন্দোলনে বুক চিতিয়ে লড়াই করা কুমিল্লার ৫৬৬ জন জুলাইযোদ্ধা অঙ্গহানি ও শরীরে মারাত্মক ক্ষত নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পুলিশের গুলি ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় হাত, পা ও চোখ হারিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করলেও দীর্ঘ দিনেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি যথাযথ চিকিৎসা কিংবা কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী, ময়নামতি, পদুয়ার বাজার, নিমসার, চান্দিনাসহ কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনে সহস্রাধিক ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হন। সরকারি গেজেটে ৫৬৬ জন আহত এবং ৪০ জন শহীদের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও অনেকেরই মিলছে না সুচিকিৎসা। অর্থাভাব এবং ঋণের বোঝায় জর্জরিত এসব যোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একদিকে শরীরের অসহ্য যন্ত্রণা, অন্যদিকে সরকারি উদ্যোগ ও সহযোগিতার অভাবে তাদের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়।
.png)
কোটাড়ী এলাকায় চোখে গুলি খেয়ে এক চোখ হারানো সাগর মিয়া বলেন, ‘১৭ দিন আইসিইউতে থাকার পর বেঁচে ফিরলেও আজ স্বাভাবিক জীবন হারাতে বসেছি। চিকিৎসাবিমুখতায় আমার অপর চোখটিও নষ্ট হওয়ার পথে।’ আরেক আহত যোদ্ধা আনোয়ারুল আজিম জানান, ১৯ মাস হাসপাতালে থেকেও সুস্থ হননি, অর্থের অভাবে উন্নত সার্জারি না হওয়ায় তার পা অচল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া কিস্তির ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে বিভিন্ন সময় হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলে জানান ইসমাইল হোসেন নামের আরেক যোদ্ধা।
জুলাইযোদ্ধাদের এমন দুর্দিনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা মহানগরের সাবেক আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, ‘মাত্র দুই বছরে জুলাইযোদ্ধারা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে, যা রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে কাম্য নয়। এদের চিকিৎসা ও সম্মান প্রদানে কার্পণ্য করলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না।’
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মিজ রোজি আক্তার বলেন, ‘জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে সরকার কাজ করছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যে কোনো নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা প্রস্তুত আছি।’