বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির হল রুমে আবদুল গফুর হালী রিসার্চ সেন্টারে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও শিল্পীর লেখা গান পরিবেশন করা হয়।
আবদুল গফুর হালী রিসার্চ সেন্টারের ভাইস চেয়ারম্যান ও পিএইচপি ফ্যামিলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান।
.png)
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন লেখক ও গবেষক এবং ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো ড. সেলিম জাহাঙ্গীর এবং কবি ও কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী।
গফুর হালী সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ড. সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, গফুর হালী শুধু চট্টগ্রামকেই অলোকিত করেননি- তার সৃষ্টি কর্ম চট্টগ্রামের মাটি মারিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কৃতিত্বের ছাপ রেখেছেন। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের লোকসংগীতের একজন গবেষক ও সাধক। তার সৃষ্টি ও সাধনা চাটগাঁইয়া সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
কবি ও কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, আবদুল গফুর হালীর বঞ্চনার পেছনে যারা দায়ী তারা হলেন- চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের তথাকথিত এলিট সমাজ। এই তথাকথিত এলিট সমাজের কাছে শিল্পী ও সাধক হিসেবে স্থান না পাওয়ায় তিনি অবহেলিত রয়ে গেছেন।
কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী আরও বলেন, এই চট্টগ্রামে জাত-পাতের একটা বিষয় আছে, এই জাত-পাতের কারণে মাটি থেকে উঠে আসা শিল্পীকে মূল ধারায় গ্রহণ করতে চাই না।
আঞ্চলিক ও মাইজভাণ্ডারী গানের মুকুটহীন এই সম্রাটকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করার দাবি জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, আবদুল গফুর হালী চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ও মাইজভাণ্ডারী গানের নবযুগের সৃষ্টি করেছেন যা খুব কম শিল্পীর পক্ষেই সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার জেনে ভালো লাগলো কিংবদন্তি শিল্পীকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সন্তানের মতো আগলে রেখেছিল পিএইচপি ফ্যামেলি। তার আবাসন, চিকিৎসা এবং খাওয়া-দাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলো এই শিল্পগ্রুপ। একজন শিল্পীর পেছনে পিএইপির এই অবদান চট্টগ্রামের মানুষ আজীবন স্মরণ করবে। তিনি বলেন, আবদুল গফুর হালী ছিলেন মাটির মানুষ। তিনি সুর সাধনায় চিরদিন নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। তাঁর মতো কালজয়ী শিল্পীর যথাযথ মূল্যায়ন ও সংরক্ষণ প্রয়োজন।
আবদুল গফুর হালীর জীবন, কর্ম ও সংগীতসাধনাসহ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক শিল্পীদের কর্মমত সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা করেন আবদুল গফুর হালী রিসার্চ সেন্টারের সেক্রেটারি ও সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হায়দার।
আবদুল গফুর হালীর সৃষ্টি ও সাধনা চাটগাঁইয়া সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। তার মতো কালজয়ী শিল্পীকে যথাযথ মূল্যায়ন ও সংরক্ষণ দাবি জানান এই সাংবাদিক।
আবদুল গফুর হালী রিসার্চ সেন্টারের ভাইস চেয়ারম্যান ও পিএইচপি ফ্যামিলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন বলেন, গফুর হালীকে নিয়ে অনেকদিন ধরে কাজ করছি আমরা। তার সবগুলো গান, ইতোমধ্যে স্বরলিপিসহ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং কপি রাইটও করা হয়েছে।তার লেখা নাটকগেুলোও সংরক্ষণ করেছি আমরা। তার মধ্যে একটি নাটক আমরা নির্মাণ করেছি। যা মালয়েসিয়া এবং কোরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিভিন্ন ফিল্পফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ও মাইজভাণ্ডারী গানের শিল্পী কল্যাণী ঘোষ, খ্যাতিমান সংগীতজ্ঞ আবদুল মান্নান কাওয়াল, গীতা আচার্য, জিয়াউদ্দিন বাদশা, আলাউদ্দিন কাওয়াল, নয়ন শীল ও জাবেদ হালী। তাদের পরিবেশনায় আবদুল গফুর হালীর সৃষ্ট গানসহ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক ও মাইজভাণ্ডারী সংগীত পরিবেশিত হয়।