বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল পাঁচটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের দক্ষিণ ঠাকুরগাঁও এলাকার স্বপ্ন জগত পার্কে এ অভিযান চালানো হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, অভিযান শেষে গ্রেপ্তার তিনজনকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর তাঁদের আবার স্বপ্ন জগত পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পার্কে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালত তিনজনের প্রত্যেককে ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা এবং দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
.png)
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং স্বপ্ন জগত পার্কের মালিক গোলাম সরওয়ার চৌধুরীর বড় ছেলে সাঈদ চৌধুরী (৩২), পৌর শহরের সরকারপাড়া এলাকার মৃত মকসেদ আলীর মেয়ে রিয়া আক্তার (২৮) এবং একই এলাকার জামাল উদ্দীনের ছেলে ফরহাদ হোসেন জিকো (৩০)।
ডিবি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে পার্কের ভেতর থেকে একটি খেলনা পিস্তল, চারটি ওয়াকিটকি, দুটি রড, তিনটি ইয়াবা বড়ি, একটি বৈদ্যুতিক শক মেশিন এবং যৌন উপকরণ জব্দ করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের সময় রিয়া আক্তারকে আপত্তিকর অবস্থায় ও মাদকাসক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ফরহাদ হোসেন জিকোকে তাদের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বপ্ন জগত পার্ককে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বিনোদনকেন্দ্রের আড়ালে পার্কটিতে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে আসছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পার্ক এলাকায় নারী-পুরুষের সন্দেহজনক আনাগোনা বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন, সেখানে মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচা এবং জুয়ার আসর বসার অভিযোগও রয়েছে। এসব নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পার্কে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের আনাগোনা এবং নির্দিষ্ট কিছু স্থানে দীর্ঘ সময় অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
ডিবির সাম্প্রতিক অভিযানে ইয়াবা, ওয়াকিটকি, খেলনা পিস্তল, বৈদ্যুতিক শক মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের পর স্থানীয়দের পুরোনো অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব সরঞ্জাম সেখানে কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল এবং পার্কে আরও কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন বলেন, অভিযানে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জাম ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার তিনজনকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পার্কটিতে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চলছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।