ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় সরবরাহের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রায় ৯৫০ কেজি ঘোড়ার মাংস জব্দ করেছে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার ভোরে নরুন্দি চকবাজার এলাকায় যাত্রাবাড়ীগামী একটি পিকআপ ভ্যানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ১৩টি বস্তায় রাখা বিপুল পরিমাণ ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করা হয়। সদর উপজেলার মিরাপুর ঘাট এলাকা থেকে মাংসগুলো ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল।
.png)
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে মানুষের খাবারের জন্য সরবরাহের উদ্দেশ্যেই পাঠানো হচ্ছিল।
স্থানীয়রা জানান, সকাল ৬টার দিকে তুলশীরচর ইউনিয়ন থেকে মাংস নিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান মিরাপুর ঘাটে পৌঁছায়। সেখানে বস্তাগুলো গাড়িতে ওঠানোর সময় মাংস থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। এতে স্থানীয় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তারা পিকআপটি আটকে রেখে নরুন্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিকআপসহ ১৩ বস্তা মাংস জব্দ করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে আটক করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
এদিকে রোববার দুপুরে জামালপুরের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমন হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত আটকদের সাজা দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন জুয়েল, শহীদ মিয়া, আফজাল মিয়া, হুমায়ুন ও রাসেল মিয়া। এদের মধ্যে মূল হোতা তিনজনকে ছয় মাস এবং পিকআপের চালক ও হেলপারকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের মোট ১ লাখ ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নাজমুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তাদের ধরতে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালানো হয়েছে, তবে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাংসের এই বড় চালানসহ পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়েছে। এই মাংসের উৎস কোথায় এবং চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, উদ্ধার হওয়া মাংসগুলো আসলে ঘোড়ার কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।