পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলা ও গাফিলতির কারণেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন স্টেশন রোড এলাকার নিউ লাইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে সন্তান প্রসবের জন্য তামান্নাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের সার্জন ডা. ফারহানা আক্তারের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময় জরায়ু কেটে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
.png)
অবস্থার অবনতি হলে রাত ১০টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সে করে তামান্নাকে উত্তরার শিন শিন হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, সিজারিয়ান অপারেশনের পর নবজাতক কন্যাশিশুটিও নিউ লাইফ হাসপাতালেই মারা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত তামান্না গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার বসুগাঁও মীরের বাজার এলাকার মো. সিদ্দিক মিয়ার মেয়ে এবং মো. রবিউল ইসলাম তুহিনের স্ত্রী।
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. ফারহানা আক্তারের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হাসপাতালের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়।