ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গোয়ালন্দে দেড় বছর ধরে অসম্পূর্ণ সড়ক

মো. শাকিল মোল্লা, রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ১৬:৩৩, ৩০ আগস্ট ২০২৬
গোয়ালন্দে দেড় বছর ধরে অসম্পূর্ণ সড়ক
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের নির্মাণকাজ প্রায় দেড় বছর ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার চিঠি দিয়েও কাজ শেষ করাতে না পেরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন হেডকোয়ার্টার থেকে উজানচর জিসি হয়ে ফকিরপাড়া সড়কটির দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৬৮৫ মিটার বা ২ দশমিক ৬৮৫ কিলোমিটার। এইচবিবি সড়ক পুনর্গঠন করে কার্পেটিং করার জন্য প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৩৭ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৪ টাকা।

কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মেসার্স জাকাউল্লা অ্যান্ড ট্রেডার্স। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর কাজ শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের ১৬ মে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

Advertisement

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সড়কটির ৬৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে প্রায় দেড় বছর ধরে অবশিষ্ট কাজ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় স্থানে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ না করায় ভারী বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন ফকির, আফতার শেখ, খবির সরদারসহ কয়েকজন বলেন, ‘আমরা সড়কটি নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছি। ঠিকাদারকে বারবার বললেও তিনি কাজ শেষ করছেন না। বিটুমিনের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দিচ্ছেন। কিন্তু কাজটি যখন শুরু হয়েছিল, তখন তো বিটুমিনের দাম কম ছিল। মাঝেমধ্যেই বৃষ্টিতে সড়কটি ভেঙে যাচ্ছে। অনেক অনুরোধের পর কিছু বালু ফেলে ঠিকঠাক করা হয়। এভাবেই চলছে প্রায় দেড় বছর। সড়কটির অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করা দরকার।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘কাজটি যখন শুরু করেছিলাম, তখন ব্যারেলপ্রতি বিটুমিনের দাম ছিল প্রায় ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে ১৮ হাজার টাকার বেশি হয়েছে। তাই কাজ করছি না। প্রকৌশল কার্যালয় থেকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখি কী করা যায়।’

গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নিল বলেন, ‘সড়কের কাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অন্তত ৮ থেকে ১০ বার চিঠি দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দিয়েছি। কিন্তু তারা এতে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে কাজটির চুক্তি বাতিলের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পত্র দিয়েছি।’

রাজবাড়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে এক-দুই দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যদি জনস্বার্থকে এভাবে বারবার অবজ্ঞা করতেই থাকে, তাহলে চুক্তি বাতিল করে অবশিষ্ট কাজের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সড়কটির অবশিষ্ট কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: রাজবাড়ী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!