ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দৌলতদিয়ায় যৌনপল্লির বাসিন্দাদের আর্থসামাজিক ও পুনর্বাসন চাহিদা নিরূপণে জরিপ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৪৮, ৩০ আগস্ট ২০২৬
দৌলতদিয়ায় যৌনপল্লির বাসিন্দাদের আর্থসামাজিক ও পুনর্বাসন চাহিদা নিরূপণে জরিপ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে বসবাসরত বাসিন্দাদের আর্থসামাজিক অবস্থা ও পুনর্বাসনের চাহিদা নিরূপণে ‘আর্থসামাজিক ও পুনর্বাসন চাহিদা নিরূপণ জরিপ-২০২৬’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৩টায় দৌলতদিয়া বাজারের পূর্বপাড়া এলাকায় এ জরিপ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সহযোগিতা করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া যৌনপল্লির বাসিন্দাদের সরকারি তথ্যব্যবস্থার আওতায় আনা এবং তাদের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত চাহিদা চিহ্নিত করাই এ জরিপের মূল উদ্দেশ্য। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

Advertisement

জরিপ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে মুক্তি মহিলা সমিতি, কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থা (কেকেএস), গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, পায়াকট বাংলাদেশ, শাপলা মহিলা সংস্থা (এসএমএস) ও হাউস অব হোপ বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক মো. নিজাম উদ্দিন, জেলা এনজিও ফেডারেশনের সভাপতি মো. লুৎফর রহমান লাবু, মুক্তি মহিলা সমিতির প্রকল্প পরিচালক আতাউর রহমান মঞ্জু, কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থার (কেকেএস) প্রকল্প কর্মকর্তা প্রথিক কুমার পাল, পায়াকট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক মো. মজিবুর রহমান জুয়েল, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. জুলফিকার আলী, শাপলা মহিলা সংস্থার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলমসহ বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা, যৌনপল্লির বাসিন্দা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের বাস্তব জীবনযাত্রা ও প্রয়োজন চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, জরিপের মাধ্যমে তা নিরূপণ করা হবে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “সমাজের কোনো জনগোষ্ঠী যেন সরকারি সেবা ও আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জরিপের মাধ্যমে দৌলতদিয়া যৌনপল্লির বাসিন্দাদের প্রকৃত অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তাদের নিরাপত্তা ও আইনগত সহযোগিতার বিষয়েও থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা বলেন, ‘সরকারি পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে বসবাসরত মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা ও পুনর্বাসনের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণে এ জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, জরিপে সংগৃহীত তথ্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গোপনীয়তার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে। পরবর্তীতে এসব তথ্যের ভিত্তিতে দৌলতদিয়া যৌনপল্লির বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম গ্রহণে সহায়তা পাওয়া যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে বসবাস করছেন তারা। তাদের বাস্তব পরিস্থিতি সরকারি পর্যায়ে উঠে এলে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা পাওয়ার পথ আরও সহজ হবে বলে তারা আশা করছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: রাজবাড়ী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!