রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর মেগা ফাইনালে আশাশুনি উপজেলা দল ও কালিগঞ্জ উপজেলা দলের মধ্যে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে আশাশুনি উপজেলা দল ও কালিগঞ্জ উপজেলা দল ১-১ গোলে সমতায় থাকে। নির্ধারিত সময়ে কোনো দল বিজয়ী না হওয়ায় রেফারি টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত নেন।
.png)
টাইব্রেকারে প্রথম শট নিতে আসে আশাশুনি উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় বেনজামা। তাঁর শটে এগিয়ে যায় আশাশুনি উপজেলা দল। পরে কালিগঞ্জের হয়ে টাইব্রেকারে শট নিতে আসেন আল আমিন। তাঁর শট আশাশুনি উপজেলার গোলরক্ষক শান্ত দক্ষতার সঙ্গে সেভ করলে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে দর্শকপূর্ণ সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামের পুরো গ্যালারি।
পরে আশাশুনি উপজেলা দল টাইব্রেকারে বাকি চারটি শট সরাসরি গোলে পরিণত করে। অপর দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা দল বাকি তিনটি শটে গোল করলে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে মাঠ ছাড়ে। ফলে আশাশুনি উপজেলা দল জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনালে কালিগঞ্জ উপজেলা দলকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
এর আগে জমকালো আয়োজনে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ক্রীড়ামোদী দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় আর রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়াম পরিণত হয় জনসমুদ্রে। প্রথমার্ধের শুরুতেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর উভয় দলের সমর্থক ও দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালিতে জাঁকজমকপূর্ণ ফাইনাল খেলাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ক্রীড়া উৎসব।
প্রথমার্ধের ৯ মিনিটের মাথায় আশাশুনি উপজেলা দলের ৯ নম্বর জার্সিধারী সজীবের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আশাশুনি। ১-০ গোলের লিড নিয়ে আশাশুনি উপজেলা দল আরও আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে। অপর দিকে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে কালিগঞ্জ উপজেলা দল পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে। গোল পরিশোধের মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে খেলার ধরন পরিবর্তন করে প্রতি মুহূর্তে আক্রমণে যায় কালিগঞ্জ উপজেলা দল।
কালিগঞ্জ উপজেলা দল শুরুতে ৪-৪-২ পজিশন থেকে গোল খেয়ে ৪-৩-২-১ পজিশনে খেলতে থাকে। অপর দিকে আশাশুনি উপজেলা দল আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ৪-২-২-২ পজিশনে খেলতে থাকে। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় আশাশুনি উপজেলা দলের সজীবের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় উভয় দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ১-০ গোলের লিড নিয়ে ফিরে আরও আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে আশাশুনি উপজেলা দল। অপর দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা দল গোল পরিশোধের মরিয়া হয়ে সর্বোচ্চ আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটের মাথায় কালিগঞ্জ উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় ১১ নম্বর জার্সিধারীকে ডি-বক্সের মধ্যে একা পেয়ে নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা করেন আশাশুনি উপজেলা দলের গোলরক্ষক জি কে শান্ত। গোলরক্ষক শান্তর একক প্রচেষ্টায় এ যাত্রায় রক্ষা পায় আশাশুনি।
খেলায় তখন আশাশুনি উপজেলা ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধের ৮৫ মিনিটের মাথায় কালিগঞ্জ উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় ১০ নম্বর জার্সিধারী আল আমিনের গোলে ১-১ সমতায় ফেরে কালিগঞ্জ। ফলে আশাশুনি উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলা দলের স্কোর দাঁড়ায় ১-১।
খেলার ৮৮ মিনিটের মাথায় আবারও আক্রমণে যায় আশাশুনি উপজেলা দল। সজীবের শট সেভ করেন কালিগঞ্জ উপজেলা দলের গোলরক্ষক নাঈম। দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ গোলের সমতা নিয়ে রেফারি শেষ বাঁশি বাজান। নির্ধারিত সময়ে কোনো দল জয়ী না হওয়ায় রেফারি টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত নেন।
টাইব্রেকারে আশাশুনি উপজেলা দল পাঁচটি শটের পাঁচটিতেই গোল করে। অপর দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা দল তিনটি শটে গোল করতে সক্ষম হয়। ফলে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে জয় পায় আশাশুনি উপজেলা দল।
এর আগে ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মধ্যবিরতিতে দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আয়োজক কমিটি।
ডিসি কাপ ফুটবলের ফাইনালে রেফারি হিসেবে মাঠ পরিচালনা করেন তরুণ প্রজন্মের অন্যতম আইকন আবু সুফিয়ান। সহকারী রেফারি ছিলেন নাসির উদ্দীন ও জাহাঙ্গীর কবির। চতুর্থ রেফারি হিসেবে ছিলেন মিজানুর রহমান। ম্যাচ কমিশনার ছিলেন আতাউর রহমান। এ ছাড়া মাঠে ধারাভাষ্যে ছিলেন ওলিউর রহমান, ইসমাইল হোসেন মিলন ও আশরাফ হোসেন।