ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

৫ কোটির টেন্ডার দখলের অভিযোগ, অডিওতে সাংবাদিকের হুমকি!

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:০৮, ৩১ আগস্ট ২০২৬
৫ কোটির টেন্ডার দখলের অভিযোগ, অডিওতে সাংবাদিকের হুমকি!
ফাইল ছবি

ঠিকাদারকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়নকাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে টেলিভিশনের স্থানীয় এক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা কাজটি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘি থেকে গারোবাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের। অভিযোগ, এই টেন্ডারে অংশ নেওয়া থেকে তালিকাভুক্ত এক ঠিকাদারকে সরিয়ে দিতেই তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

এ-সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড টাঙ্গাইলের বিভিন্ন ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ইনবক্সে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অডিওটি নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অডিও রেকর্ডটি ডেইলি বাংলাদেশ-এর হাতে এসেছে।

Advertisement

অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতার প্রভাব ব্যবহার করে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কোটি কোটি টাকার কাজের টেন্ডারে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মামুনুর রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের তালিকাভুক্ত প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার আজিজুর রহমানকে প্রায় ৫ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়নকাজের টেন্ডার থেকে বিরত থাকার জন্য মোবাইল ফোনে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ।

হাতে আসা অডিও রেকর্ডে মামুনুর রহমানকে ঠিকাদার আজিজুর রহমানের সঙ্গে টেন্ডারসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে তিনি বলেন, “আপনি কি জানেন টেন্ডারের বিডি কে দিয়েছে, সিডিউল কে কিনেছে? খোঁজ না নিয়ে কাজ নিতে আসছেন কেন?”

কথোপকথনে মামুনুর রহমান আরও দাবি করেন, তিনি দুই মাস আগে সিডিউল কিনে বিডি জমা দিয়েছেন।

একপর্যায়ে ঠিকাদারের উদ্দেশে তাকে হুমকির সুরে বলতে শোনা যায়, “কাজটি ভালো করেননি। ওকে দেখছি।”

জানা গেছে, মামুনুর রহমানের নামে সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরে ঠিকাদারি লাইসেন্স নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

যদি তার নামে কোনো বৈধ ঠিকাদারি লাইসেন্স না থাকে, তাহলে প্রায় ৫ কোটি টাকার সরকারি কাজের সিডিউল কীভাবে কেনা হলো, কার নামে সিডিউল কেনা হয়েছে এবং কার নামে বিড জমা দেওয়া হয়েছে—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয় চত্বরে ঠিকাদার আজিজুর রহমানকে স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার লাঞ্ছিত ও মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ঘটনায় মামুনুর রহমানের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছিল। এমনকি ঘটনাটি যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশ না পায়, সে জন্য মামুনুর রহমানের সঙ্গে ৩ লাখ টাকার একটি চুক্তি হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনা টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খানের দায়িত্বকালীন সময়ে ঘটে।

একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয়ে নিজেদের প্রভাব ও আধিপত্য ধরে রাখতে এবং বিভিন্ন কাজের অনিয়ম-দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ ঠেকাতে সাংবাদিকদের একটি অংশকে ব্যবহার করা হয়েছে।

ঠিকাদারকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা এবং হুমকি-ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানানো হলেও, অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।

সম্প্রতি টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান বদলি হয়ে ঢাকায় চলে গেছেন।

মামুনুর রহমানের কথোপকথনের অডিওটি শোনানো হলে ড. সিনথিয়া আজমিরী খান বলেন, “এটা তো হুমকি।” তবে টেন্ডার নিয়ে এমন কোনো ঘটনা বা অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

একাধিকবার ফোন করলেও রিসিভ করেননি ঠিকাদার আজিজুর রহমান। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক সহযোগী জানিয়েছেন, অডিও রেকর্ডটি সাংবাদিকদের হাতে যাওয়ার কথা জানার পর থেকেই আজিজ আতঙ্কে আছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মামুনুর রহমান বলেন, তিনি ওই কাজটি বাগিয়ে নেননি; বরং টেন্ডারে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু কাজটি পাননি। তার ভাষ্য, “ওই কাজটা আমি বাগিয়ে নিই নাই। ওইটা টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেছিলাম, কিন্তু কাজটা আমি পাই নাই।”

তিনি জানান, টেন্ডারে অংশ নেওয়ার পর ঠিকাদার আজিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। মামুনুর রহমানের দাবি, “না পাওয়ার কারণে তাকে বলেছিলাম—আপনি যখন টেন্ডারটা নিলেন, আপনি তো টেন্ডারওয়ালারে ফোন করেন নাই। তাহলে কাজটা কীভাবে করলেন? এইটুকুই।”

নিজের ঠিকাদারি কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি বিভিন্ন সময় লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে কাজ করি।”

মামুনুর রহমান আরও জানান, তিনি নিজেও গণমাধ্যমকর্মী এবং বিষয়টি সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনা করার অনুরোধ করেন। তার ভাষায়, “আপনিও গণমাধ্যমকর্মী, আমিও গণমাধ্যমকর্মী। নিশ্চয়ই আপনি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন যে আমাদের চলার জায়গাটা পর্যাপ্ত না বিধায় এরকম ঠিকাদারি কাজ মাঝে মাঝে ভাই-ব্রাদার নিয়ে করি।”

সবশেষে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস আর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!