যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের আশায় নির্মিত সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে উন্নয়নের অপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। মূল সেতুর প্রায় পুরো কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি তাই পড়ে আছে অনেকটা ব্যবহারহীন অবস্থায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, একটি সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা থাকলেও কেন বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ এই কাজটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেল?
.png)
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অনূর্ধ্ব-১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় শ্রীনগর ও গজারিয়া ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে ২০২০ সালে কোদালকাটি নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ। পরে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মুমিনুল হক এন্টারপ্রাইজ সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতায় দুই দফা সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু সংযোগ সড়ক নির্মাণ শেষ না হওয়ায় পুরো প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি নিয়ে মালিকানা বিরোধ দেখা দেয়। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মামুন মিয়া বলেন, ‘সংযোগ সড়কের জমি নিয়ে মালিকানা বিরোধের কারণে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত যাওয়ায় দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়েছে। এখন জটিলতা অনেকটাই শেষ হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আলকাছ মিয়া ও আনার মিয়া বলেন, সেতুটি চালু হলে শ্রীনগর ও গজারিয়া ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। বর্তমানে তাঁদের অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজিদুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম সেতু চালু হলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু এত বছর পরও সেতুটি ব্যবহার করতে পারছি না। শুধু সেতু নির্মাণ করলেই হবে না, মানুষের চলাচলের ব্যবস্থাও করতে হবে।’
আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘সরকারের এত টাকা খরচ হয়েছে। এখন শুধু সংযোগ সড়কের জন্য পুরো সেতু পড়ে আছে। দ্রুত কাজ শেষ করা দরকার।’
ভৈরব উপজেলা প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, জমি-সংক্রান্ত জটিলতা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ হলে সেতুটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
স্থানীয় উন্নয়নসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বড় কোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে জমি, সংযোগ সড়ক ও আনুষঙ্গিক কাজের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় মূল স্থাপনা নির্মিত হলেও জনগণ তার সুফল থেকে বঞ্চিত হয়।
কোদালকাটি সেতুর ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। প্রায় নয় কোটি টাকা ব্যয়ের পরও সংযোগ সড়কের অভাবে প্রকল্পটি পূর্ণতা পাচ্ছে না।
এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এতে দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহারও নিশ্চিত হবে।