শুক্রবার রাতে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ছিল রোগীদের ভিড়। চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছিলেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা। এমন সময় জরুরি বিভাগের ভেতরে দেখা যায়, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ইরফান মাহমুদ অসুস্থ অবস্থায় বাম হাতে ক্যানুলা নিয়েই চেয়ারে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
অসুস্থতার মধ্যেও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাত ১২টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এরপর জরুরি বিভাগের দায়িত্ব সামলাতে এগিয়ে আসেন ডা. নয়ন চন্দ্র রায়। মাইগ্রেনের তীব্র ব্যথা নিয়েও রাতে ওষুধ সেবন করে তিনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে থাকেন।
শনিবার দুপুর থেকেও চিকিৎসক সংকটের কারণে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ডা. নয়ন চন্দ্র রায়। মাথাব্যথায় অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও জরুরি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা কিছুটা ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাচ্ছেন।
.png)
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের ওপর। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় একজন চিকিৎসককে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের ওপর বাড়ছে শারীরিক ও মানসিক চাপ।
শুক্রবার রাতে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ। এরপরও রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে অসুস্থ শরীর নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন ডা. নয়ন চন্দ্র রায়।
রোগীদের সেবায় চিকিৎসকদের এমন দায়িত্বশীলতা প্রশংসা কুড়ালেও চিকিৎসক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত চিকিৎসক সংকট নিরসন করে ভোলা সদর হাসপাতালে স্বাভাবিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা।
রুগীর স্বজন আফজাল মাহমুদ জানান, ভোলা একটি দ্বীপ জেলা হওয়ায় এখানকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি। বিশেষ করে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ওপর নির্ভর করেন। ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। তাই দ্রুত ডাক্তার পদয়ানের ব্যবস্থা করে সেবার পরিবেশ তৈরি করার দাবি জানান।
২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, ডা. আরাফাতুর রহমান জানান, চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ব্যহত হচ্ছে ভোলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা।
একই সাথে অতিরিক্ত রুগীর চাপে হিমশিম খাওয়ার অবস্থা চিকিৎসকদের। বর্তমানে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ রুগী মতো। শয্যা সংকটে কারনে হাসপাতালের মেঝে বারান্দায় চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে রুগীদের।হাসপাতালে ৮৭ জন চিকিৎসক এর বিপরীতে আছে মাত্র ১৭ জন। একটি বড় অংশ চিকিৎসক সংকট নিয়ে রোগীর সেবা দিতে গিয়ে ডাক্তাররা প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাই দ্রুত ডাক্তার সংকট নিরসনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন মনিরুল ইসলাম বলেন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পদায়ন করা ব্যক্তিরা যোগদান করলে তাদের দিয়ে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, এ হাসপাতালের ইনডোরে প্রতিদিন সাড়ে ৪০০ ও আউটডোরে পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। দ্রুত চিকিৎসক সংকট নিরসনে উদ্যাগ নিবে কর্তৃপক্ষ। এমনটাই প্রত্যাশা রোগী ও স্বজনদের।