কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত কমিটি সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেলওয়ে সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভৈরব রেলওয়ে জংশন এবং আশপাশের বিভিন্ন রেলওয়ে কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে মিটার ছাড়াই শত শত বাসা ও দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে রেলওয়ে যেমন সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি অননুমোদিত সংযোগের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় তৈরি হচ্ছে নিরাপত্তাঝুঁকি।
.png)
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ, ভৈরব-নরসিংদীর খানাবাড়ি এবং ভৈরব-আশুগঞ্জ রেলপথসংলগ্ন এলাকায় রয়েছে কয়েকশ আবাসিক কোয়ার্টার। এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক) মোহাম্মদ আল মামুনের বিরুদ্ধে অবৈধ সংযোগ প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভৈরব রেলওয়ের নিজস্ব কোয়ার্টার, ফেরিঘাট কলোনি, চণ্ডীবের কলোনি ও সুইপার কলোনির বিভিন্ন মিটারবিহীন বাড়িতে শুধু ফ্যান-বাতি নয়, ফ্রিজ, টেলিভিশন, হিটারসহ উচ্চ ক্ষমতার বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, ২০১৮ সাল থেকে ভৈরবে কর্মরত মোহাম্মদ আল মামুনকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে কয়েক মাসের জন্য আখাউড়ায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের। পরে ২০২৫ সালে পুনরায় ভৈরবে যোগ দেওয়ার পর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত লাইনম্যান মনিরের মাধ্যমে মিটারবিহীন প্রতিটি সংযোগের বিপরীতে মাসে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। শত শত সংযোগ থেকে এভাবে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের কোনোটি এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত কমিটির সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রতিবেদনেই অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, অবৈধ সংযোগের অভিযোগের পাশাপাশি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল মামুনের বিরুদ্ধে অধীনস্থ কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে রেলওয়ের কয়েকজন কর্মচারী তাঁর অধীনে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলেও জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আল মামুনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কমিটি মিটারবিহীন সংযোগের সংখ্যা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন, সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগসহ সার্বিক বিষয় তদন্ত করবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী শাকের আহমেদ বলেন, ‘রেলওয়ের বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগের বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি যেকোনো সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। তদন্তে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পরই জানা যাবে ভৈরব রেলওয়ে জংশন ও আশপাশের এলাকায় প্রকৃতপক্ষে কতগুলো অননুমোদিত সংযোগ রয়েছে, এসব সংযোগের সঙ্গে কারা জড়িত এবং মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগের সত্যতা কতটা। একই সঙ্গে রেলওয়ের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।