ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
৫ কোটির বেশি টাকা লেনদেনের দাবি, সতর্ক করেছে রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়

রাশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিক-শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দম্পতির বিরুদ্ধে

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২৯, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিক-শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দম্পতির বিরুদ্ধে
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নাটোরের নলডাঙ্গার নবদম্পতি মিনহাজুল ইসলাম হৃদয় ও রাবেয়া খাতুনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ ৩৫ মিলিয়ন রুশ রুবলের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি টাকার বেশি। এ ঘটনায় ঢাকার মিরপুর ও নাটোরের নলডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

এদিকে রাশিয়ার ভোরোনেঝ স্টেট ইউনিভার্সিটি অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিসের (VSUFT) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে হৃদয় ও রাবেয়া খাতুনের বিষয়ে সতর্ক করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে হৃদয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, রাশিয়া থেকে তিনি প্রায় তিন বছর ধরে বাংলাদেশে অর্থ লেনদেন করতেন। তাঁর ভাষ্য, একটি ব্যাংক হিসাব মানি লন্ডারিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত অভিযোগে জব্দ হওয়ার পর তিনি সমস্যায় পড়েছেন। ওই হিসাবে প্রায় দেড় কোটি রুবল আটকে আছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ৩৫ মিলিয়ন রুবল আত্মসাতের অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করছেন এবং অর্থ ফেরত দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের সতর্কবার্তা

ভোরোনেঝ স্টেট ইউনিভার্সিটি অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিসের (VSUFT) পেজে দেওয়া পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, মিনহাজুল ইসলাম হৃদয় ও রাবেয়া খাতুন দুজনই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনেকেই সরাসরি টিউশন ফি ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেন করতে পারেন না। বিকল্প ব্যবস্থায় অর্থ পাঠানোর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওই দম্পতি বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও প্রবাসী শ্রমিকের কাছ থেকে টাকা নেন। পরে অর্থ ফেরত না দেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও অনলাইন গ্রুপে আলোচনা শুরু হয়। সেখানে কেউ কেউ এ ঘটনায় বিদেশে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ

নলডাঙ্গা থানায় করা একটি অভিযোগে সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, টিউশন ফি দেওয়ার জন্য তিনি ইউসিবি ব্যাংক পিএলসির মাধ্যমে তিন দফায় মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা হৃদয়কে দেন। টাকা দেওয়ার পর হৃদয় তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যম থেকে ব্লক করে দেন বলে অভিযোগ তাঁর।

সাইফুলের অভিযোগ, পরে হৃদয়ের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরেক ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে অনেক কষ্ট করে টাকা পাঠাই। এই প্রতারণার কারণে অনেকে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন। সরকারের কাছে আবেদন, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।’

পরিবারের বক্তব্য

হৃদয়ের চাচা খালেক অভিযোগের বিষয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা তাঁদের টাকা দিয়েছেন এবং বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি ছিল। হৃদয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দেড় থেকে দুই কোটি টাকার কথা শুনেছেন বলে জানান। বর্তমানে হৃদয় ও তাঁর স্ত্রী আত্মগোপনে আছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

হৃদয়ের মা রুনা আক্তার ও তাঁর ভাই সিয়াম বলেন, হৃদয় হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতেন এবং বিভিন্ন প্রবাসী শ্রমিকের টাকাও লেনদেন করতেন।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সম্পদ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। এলাকায় জমি কেনা এবং বাড়ি নির্মাণের কথাও তাঁরা উল্লেখ করেন। তবে এসব সম্পদ অভিযোগের অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হৃদয় ও রাবেয়া খাতুনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে হৃদয় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

নাটোরের নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!