পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে পদ্মা নদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে ধাক্কা লেগে ট্রলার থেকে পানিতে পড়ে যাওয়ার ২২ ঘণ্টা পরও রাকিবুজ্জামান রকি (৩০) নামের এক ছাত্রদল নেতার সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় নদীতে পড়ে যাওয়া অপর দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ রাকিবুজ্জামান রকি ঝিনাইদহের শৈলকূপা পৌরসভার কবিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়পাড়া এলাকার মৃত হাসান আলীর ছেলে। তিনি শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন ঝিনাইদহের শৈলকূপার একই এলাকার বিদ্যুৎ আলীর ছেলে মো. লিটন (৩৮) এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আরুয়াপাড়া এলাকার ওহাব (৪৫)।
.png)
নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহের শৈলকূপা থেকে একটি দল ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে ভেড়ামারা এলাকার সোলাইমান শাহ মাজার বা রাজশাহী অঞ্চলে গিয়েছিল। মাজার ও বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে রাতে একই ট্রলারে করে তারা ফিরছিলেন। ফেরার পথে পাকশীর পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সঙ্গে ট্রলারটির সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ট্রলারে থাকা রাকিবুজ্জামান রকি, লিটন ও ওহাব নদীতে পড়ে যান। পরে ট্রলারে থাকা অন্যরা তাৎক্ষণিকভাবে লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রকি পানিতে তলিয়ে যান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি, ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। মাঝরাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও রকির সন্ধান পাওয়া যায়নি। শনিবার বিকেল পর্যন্ত তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, ট্রলার থেকে পড়ে তিনজন নদীতে নিখোঁজ হয়েছিলেন, যার মধ্যে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রকি এখনো ( শনিবার বিকেল ৫টা) নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।