আখাউড়ায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন, কারাদণ্ডসহ জরিমানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের দায়ে রমজান মিয়াকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ৮ হাজার ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়েছে।
রোববার রাতে উপজেলা প্রশাসনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এর আগে রোববার বিকেলে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের বনগজ, ভাটামাথা ও তন্তর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কফিল উদ্দিন মাহমুদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে থানা-পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
.png)
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অনুমোদন ছাড়াই ড্রেজার ব্যবহার করে বিভিন্ন খাল, বিল, জলাশয় ও কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছিল। এমন খবরের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালায়। এ সময় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রমজান মিয়াকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে অবৈধ মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ৮ হাজার ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আশপাশের জমি, ফসলের মাঠ ও পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।
তাদের দাবি, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন বন্ধে শুধু এককালীন অভিযান নয়, নিয়মিতভাবে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। এতে কৃষিজমি রক্ষা করার পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।