সৌদিতে শ্রমিকের কোটি টাকা বেতন বকেয়া
সৌদি আরবে কাজ করছেন শতাধিক বাংলাদেশি শ্রমিক। কেউ দুই মাস, কেউ তিন মাস, আবার কারও ছয় মাস ধরে বেতন নেই এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা বেতন বকেয়া রয়েছে। এই বিপুল অর্থ আটকে থাকার ঘটনায় ভৈরবের প্রবাসী সবুর খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন শ্রমিকরা।
সবুর খান কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার রসুলপুর গ্রামের খান বাড়ির মৃত ইসমাইল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
.png)
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, সৌদি আরবের বিভিন্ন কোম্পানিতে তাদের কাজে নিয়োগ ও বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রে সবুর খানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা ছিল। কোম্পানিগুলো থেকে শ্রমিকদের পাওনা অর্থ পাওয়ার পর তা তাদের মধ্যে পরিশোধ করার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অনেকের বেতন আটকে আছে।
শ্রমিকদের ভাষ্য, বেতন বন্ধ থাকার সময় যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে তাদের আর্থিক সংকট। দেশে পরিবারের খরচ, ঋণের কিস্তি এবং সৌদি আরবে থাকা-খাওয়ার ব্যয় চালাতে গিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী শ্রমিক শরীফুল ইসলাম, আরিফ, উসমান মিয়া ও অলি উল্লাহর অভিযোগ, তারা একাধিকবার বকেয়া বেতনের জন্য যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু প্রতিবারই নানা কারণ দেখিয়ে টাকা দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
তাদের দাবি, শুধু কয়েকজন নয়, একই ধরনের সমস্যায় রয়েছেন আরও অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক। শ্রমিকদের হিসাব অনুযায়ী, শতাধিক ব্যক্তির পাওনা মিলিয়ে টাকার পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা।
বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শ্রমিক।
তাদের দাবি, যারা পাওনা টাকা নিয়ে বেশি চাপ দিচ্ছেন, তাদের বেতন পরিশোধের পর সৌদি আরবে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সবুর খান অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি শ্রমিকদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
সবুর খান জানান, শ্রমিকদের কাছে তার ৮ কোটি টাকা নয়; প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। কোম্পানির কাছ থেকে টাকা পাওয়ার পর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে দেওয়া হবে। এছড়াও শ্রমিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
একদিকে শ্রমিকদের দাবি প্রায় ৮ কোটি টাকা, অন্যদিকে অভিযুক্তের বক্তব্য অনুযায়ী বকেয়া প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। দুই পক্ষের দাবির মধ্যে পার্থক্য কয়েক কোটি টাকা। ফলে প্রকৃত বকেয়ার পরিমাণ কত, কোন কোন কোম্পানির কাছ থেকে কত টাকা পাওনা রয়েছে এবং কোন শ্রমিকের কত মাসের বেতন আটকে আছে এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।