ঢাকা,  সোমবার   ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জয়পুরহাটে ২০ হাজার দুর্লভ শামুকখোল পাখির বাস

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০৪, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জয়পুরহাটে ২০ হাজার দুর্লভ শামুকখোল পাখির বাস
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাংলাদেশের আবাসিক এলাকার দুর্লভ পাখি শামুকখোল। সারসজাতীয় এ পাখি দেখতে অনেকটা বকের মতো হলেও আকারে বেশ বড়। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার পুন্ডুরিয়া গ্রামে প্রায় ২০ হাজার শামুকখোল পাখির বসবাস। বছরের অধিকাংশ সময় একই এলাকায় থেকে ঝাঁক বেঁধে জীবনযাপন করে পাখিগুলো।

শামুকখোল বাংলাদেশের বড় জলচর পাখিদের একটি। এর গায়ের রং ধূসর-সাদা, আর লেজ ও পাখার শেষভাগ কালো। সাধারণত ৫০ থেকে ৮০ সেন্টিমিটার লম্বা এ পাখির প্রতিটি পাখার দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। এরা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। একেকটি ঝাঁকে ৩০ থেকে ৫০টি পাখি থাকতে দেখা যায়।

Advertisement

নদী, হাওর-বাঁওড়, মিঠাপানির জলাশয়, হ্রদ, ধানক্ষেত ও উপকূলীয় বনে এদের বেশি দেখা যায়। শামুকখোলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর লম্বা ও ভারী ঠোঁট। প্রায় ১৪ সেন্টিমিটার লম্বা ঠোঁট দিয়ে শামুকের খোলস ভেঙে ভেতরের অংশ খেয়ে থাকে। এ কারণেই পাখিটির নাম হয়েছে শামুকখোল। তবে শামুক ছাড়াও মাছ, কাঁকড়া, ব্যাঙ ও ছোট প্রাণী এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে।

পুন্ডুরিয়া গ্রামে শামুকখোল পাখিগুলো বড় বড় গাছে বিশাল কলোনি গড়ে বসবাস করে। বড় আম, শিমুল, বট ও অশ্বত্থগাছের উঁচু ডালে তৈরি হয় তাদের বাসা। কোনো কোনো গাছে ২০ থেকে ৩০টি বাসা দেখা যায়, আবার বড় গাছে শতাধিক বাসাও থাকে।

গাছের শুকনো ডাল, কঞ্চি ও লতাপাতা দিয়ে স্ত্রী ও পুরুষ পাখি মিলে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিনে বাসা তৈরি করে। একটি বাসার দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। জুলাই-আগস্ট মাসে স্ত্রী পাখি সাধারণত তিন থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে। ডিম মুরগির ডিমের চেয়েও বড়। স্ত্রী ও পুরুষ উভয় পাখি মিলে ডিমে তা দেয়। প্রায় ২৫ দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয় এবং ৩০ থেকে ৩৫ দিন বয়সে ছানারা উড়তে শেখে।

বাসা বাঁধার মৌসুমে শামুকখোল পানকৌড়ি ও বকের সঙ্গেও বড় কলোনি গড়ে তোলে। দলবদ্ধভাবে থাকার অন্যতম কারণ ছানাদের নিরাপত্তা। চিল, বাজপাখি, কাক কিংবা কোনো মানুষ ছানাদের ক্ষতি করতে এলে ঝাঁকবেঁধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে পাখিগুলো।

স্থানীয়দের মতে, খাবারের সংকট দেখা দিলে কখনো কখনো তারা অন্য এলাকায় চলে যায়। তবে অনুকূল পরিবেশ থাকলে বছরের পর বছর একই এলাকায় বসবাস করে। পুন্ডুরিয়া গ্রামের এই বিশাল শামুকখোলের আবাস প্রকৃতিপ্রেমী ও পাখিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!