চরফ্যাশন শিক্ষা অফিসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষকের বকেয়া এরিয়া বিল ছাড় করাতে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই শিক্ষকের কাছ থেকে বিল-সংক্রান্ত সরকারি ফাইল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিনের প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বকেয়া এরিয়া বিল দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আটকে আছে। এর আগে তিনি লালমোহন উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে চরফ্যাশনে বদলি হয়ে আসার পর গত দুই বছর ধরে বকেয়া বিল পাওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করে আসছেন তিনি।
.png)
ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগ, বিলের ফাইলের জট ছাড়ানো এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দোহাই দিয়ে তার কাছ থেকে আগে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হলেও একটি প্রত্যয়নপত্রে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর বাকি রাখা হয়। ওই স্বাক্ষর করিয়ে দেওয়ার কথা বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. ছাত্তার তার কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন।
মনির উদ্দিনের দাবি, তাকে বলা হয় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বকেয়া বিল পেতে হলে ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় ছাত্তার তার ওপর চড়াও হয়ে বিল-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ খাতা নিয়ে নেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় আগে নেওয়া ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক মনির উদ্দিন বলেন, দুই বছর ধরে বিলের জন্য ঘুরছি। প্রথমে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে আবার ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমার কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই এবং আমার প্রাপ্য টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।
তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. ছাত্তার। তিনি বলেন, “শিক্ষককে বিল করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তার কাছে কোনো টাকা-পয়সা চাওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ওই শিক্ষকের বিল-সংক্রান্ত কাগজপত্রে তিনি ইতোমধ্যে স্বাক্ষর করেছেন। অফিস সহকারী ছাত্তারের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি কিংবা নথিপত্র কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।