ঢাকা,  রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জমে উঠেছে সবজির চারা বিক্রি

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৩৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জমে উঠেছে সবজির চারা বিক্রি
আখাউড়ায় আগাম শীতকালীন সবজি চারা বিক্রিতে ব‍্যস্ত কৃষক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বানিজ্যিকভাবে শীতকালীন বেগুন, টমেটো, লাউ, মরিচ, পেপে, বাঁধাকফি, ফুলকফি,করলাসহ নানা জাতের সবজি চারা উৎপাদন শুরু করেছে। এখানকার উৎপাদিত চারার মান ভালো হওয়ায় কৃষক পর্যায়ে এর কদর রয়েছে বেশ। এদিকে পৗর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে শীতকালীন আগাম জাতের সবজি চারা বিক্রি বেশ জমে উঠেছে। কৃষকরা সকাল থেকে পরিচর্যার ব্যস্ত সময় পার করছেন। চারা বিক্রিতে দর ভালো পাওয়ায় কৃষকরা বেজায় খুশি।  

একাধিক কৃষক জানায়, মৌসুম অনুযায়ী বছরজুড়ে নানা প্রজাতির সবজি চারা উৎপাদন করে বিক্রি করলেও  শীত কালে এর চাহিদা  কয়েকগুন বেড়ে যায়। তাই অনেক কৃষক বানিজ্যিকভাবে নানা জাতের সবজি চারা উৎপাদন করে বিক্রি করেছে। স্থানীয় বাজার ও নার্সারিতে উৎপাদন হওয়া প্রতি পিচ চারা ৩০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে লাভবার হচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষি কাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানায়, বীজ থেকে চারা তৈরি করতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগে। তাই নার্সারি থেকে প্রস্তুত চারা কিনে জমিতে রোপণ করছেন। এতে সময় বাঁচার পাশাপাশি দ্রæত চাষাবাদ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে।

সরেজমিনে পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সবজি বাগানের মালিকসহ শ্রমিকরা আগাম শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদন পরিচর্যা ও বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছনে। এরমধ্যে কেউ করছনে জৈব সারে মাটি উর্বর, জিও ব্যাগে বীজ চারা রোপন, আবার কেউ বা করছেন বিক্রির জন্য চারা উত্তোলণ।

কাদির নার্সারির মালিক আব্দুল কাদির মিয়া বলেন, বাড়ি সংলগ্ন প্রায় ৩ বিঘা জমিতে মিশ্র নার্সারি বাগান করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ১ বিঘা জমিতে বেগুন, টমেটো, লাউ, মরিচ, পেপেসহ নানা জাতের সবজি চারা উৎপাদন করি। বাকি জায়গাতে দেশি-বিদেশি ফল, ফুল, ভেষজ, ওষধিসহ বিভিন্ন জাতের চারা রয়েছে। সামনে শীত আসায় আগাম জাতের নানা জাতের সবজি চারা বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করছি। অনেকে নার্সারিতে এসে নিয়ে যায়। প্রতিপিস চারা ১০-৫০ টাকায় বিক্রি করছি। দৈনিক ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার ওপর সবজির চারা বিক্রি হয়। তিনি আরও বলেন, সবজির চারা একটি লাভজনক ব্যবসা। স্বল্প পুঁজিতে ভালো টাকা আয় করা যায়। অন্যান্য বছরের চাইতে এবার চারার মান রয়েছে খুবই ভালো। এ মৌসুমে ১০ লাখ টাকার ওপর সবজি চারা বিক্রি হবে। যাবতীয় খরচ বাদে ৪ লাখ টাকার ওপর আয় হবে বলে আশা করছি।

চারা বিক্রেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, সবজির চারা কমবেশি সবসময় চাহিদা থাকে। তবে শীত মৌসুমে এর চাহিদা বেশি থাকে। নার্সারিতে বেগুন, পেঁপে, টমেটো, মরিচসহ নানা জাতের সবজি চারা উৎপাদন করি। জমি প্রস্তুত বীজসহ অন্যান্য খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন, চারাগুলো প্রখর রোদ থেকে রক্ষার জন্য সকালে ঢেকে দেয়া হয়, আবার বৃষ্টি হলেও ঢেকে রাখা হয়। গত ১৫ দিন ধরে বাজারে চারা বিক্রি করছি। প্রতিদিন ৩ হাজার টাকার ওপর চারা বিক্রি হয়। আশা করছি, গত বছরের চাইতে এবার বেশি লাভবান হবো।

সৌখিন কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি বছর শীতকালে বাড়ি সংলগ্ন জায়গাতে সবজি চাষ করি। এবার ২৫ শতাংশ জায়গায় প্রস্তুত করেছি। দু-এক দিনের মধ্যে টমেটো, লাউ ও মরিচের চারা ক্রয় করে আবাদ করা হবে। একসময়  নিজে বীজ থেকে চারা তৈরি করে চাষ করা হতো। নিজের তৈরি করা চারাতে ফলন হতো না। তাই নার্সারি থেকে ক্রয় করছি। এতে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে।

কৃষক মিনার হোসেন বলেন, সবজির চারা উৎপাদন করে আবাদ অনেক ঝামেলা। তাই গত কয়েক বছর ধরে চারা ক্রয় করে আবাদ করছি। এতে ফলন ভালো পাচ্ছি।  এবার সময়ের আগেই জমি প্রস্তুত করে আগাম জাতের টমেটো, বেগুন, মরিচ, লাউ চাষ করেছি। এখন নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবজি চাষে ভালো ফলনের জন্য মানসম্মত চারা গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ ও রোগমুক্ত চারা ব্যবহার করলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনের সম্ভাবনাও বাড়ে। তবে চারা কেনার সময় কৃষকদের জাত, বয়স, রোগবালাই ও চারার স্বাস্থ্য দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, উপজেলার অনেক চাষি এবং নার্সারি মালিক সবজি চারা উৎপাদন করে নিজ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। সরকার কৃষকের মাঝে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা হিসেবে সবজি বীজ বিতরণ করছে। তিনি আরও বলেন সবজির চারা একটি লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় চারার গুণগতমান বজায় রাখতে ও নতুন নতুন জাত ও আগাম সবজির চারা উৎপাদনে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
 

Advertisement
ডেইলি-বাংলাদেশ/আখাউড়া/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!