ঢাকা,  বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঝালকাঠিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসন ও জবাবদিহি বাড়ানোর তাগিদ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১৩, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঝালকাঠিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসন ও জবাবদিহি বাড়ানোর তাগিদ
ঝালকাঠি পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে আয়োজিত সভায় অংশীজনরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝালকাঠি পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের পাশাপাশি সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ লক্ষ্যে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ, ড্রেন পরিষ্কার, ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর সহযোগী সংগঠন অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি) আয়োজিত এক সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সনাক সভাপতি সত্যবান সেনগুপ্ত। এতে সভাপতিত্ব করেন সনাকের পরিবেশবিষয়ক উপকমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাঈল হোসাঈন।

Advertisement

সভায় পৌর প্রশাসক জুলিয়া সুকায়না বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে পৌরসভা ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। একটি স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টেশন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন স্থাপনের পরিবর্তে সরাসরি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহ করা হলে রাস্তাঘাট, ড্রেন, খাল ও নদীতে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমবে। তবে পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে পৌরবাসীকেও আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

সভায় জানানো হয়, এসিজির স্বেচ্ছাসেবীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীজনের কাছ থেকে পাওয়া সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন তারা।

টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন।

উপস্থাপনায় বলা হয়, ড্রেন, খাল ও পুকুরে বর্জ্য ফেলার কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। সুগন্ধা নদীর তীরে উন্মুক্ত অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনের কারণে পানি, মাটি ও বায়ুদূষণের পাশাপাশি মশার উপদ্রব বাড়ছে। এ ছাড়া গৃহস্থালি বর্জ্য অপসারণে ধীরগতি, মেডিকেল বর্জ্য থেকে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ও হ্যান্ডগ্লাভস ব্যবহার না করার বিষয়ও তুলে ধরা হয়।

এসব সমস্যা সমাধানে এসিজির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য সংগ্রহ, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, হটলাইন ও অভিযোগ বাক্স চালু, জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত ডাম্পিং স্টেশন ও সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক কমিটি গঠন এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা।

সনাকের পরিবেশবিষয়ক উপকমিটি ও ইয়েস সদস্য রাছমিয়া আক্তার মিমের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন এসিজি সমন্বয়ক খান জাহান রিমন, সহসমন্বয়ক নাঈম উদ্দিন, ঝালকাঠি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী টি. এম. রেজাউল হক রিজভী, উপসহকারী প্রকৌশলী অনুপ হালদার ও মো. নাজমুল হাসান।

সভায় পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সনাক, ইয়েস ও এসিজির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ঝালকাঠি/এমকে
ট্যাগ: ঝালকাঠি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!