সিরাজগঞ্জে ৫৫৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। জেলার বিভিন্ন মণ্ডপের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি জেলার চাহিদা মেটাতেও দিন-রাত কাজ করছেন তারা। এ বছর জেলায় ৫৫৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
জেলার ভদ্রঘাট পালপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে। কেউ খড়, কাঠ ও সুতা দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করছেন, আবার কেউ মাটির প্রলেপ দিয়ে নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমা। পরিবারের নারী ও শিশুরাও বিভিন্ন কাজে কারিগরদের সহযোগিতা করছেন।
কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পর এখন চলছে মাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব তৈরির কাজ। মাটি শুকিয়ে গেলে শুরু হবে রং ও সাজসজ্জার কাজ। কারিগররা জানান, আকার ও নকশাভেদে প্রতিটি প্রতিমা ১৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের পাশাপাশি পাবনা, বগুড়া, নাটোর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা পালপাড়ায় এসে প্রতিমা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতিমা কারিগর শ্রীকান্ত পাল বলেন, তার বাড়িতে এবার ১৫টি প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি প্রতিমা ৪০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হবে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমার চাহিদা বেশি বলেও জানান তিনি।
আরেক কারিগর সঞ্জীব পাল বলেন, ভদ্রঘাট পালপাড়ায় তৈরি প্রতিমাগুলো ১৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তার কারখানায় নারী-পুরুষ মিলিয়ে শ্রমিকরা কাজ করছেন। পুরুষ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১ হাজার ২০০ টাকা এবং নারী শ্রমিকদের ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।
তিনি জানান, ভদ্রঘাট পালপাড়ায় শতাধিক নারী-পুরুষ প্রতিমা তৈরির কাজে যুক্ত রয়েছেন। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এসব প্রতিমা পাবনা, বগুড়া, নাটোর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে। একটি প্রতিমা তৈরি করতে প্রায় ১০ দিন সময় লাগে।
জেলা ব্রাহ্মণ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি অশোক ব্যানার্জী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সুকুমার চন্দ্র দাস জানান, এ বছর সিরাজগঞ্জ জেলায় ৫৫৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, যুগে যুগে শ্রীশ্রী দুর্গাদেবী বিভিন্ন বিপদে দেবতা ও মানুষকে রক্ষা করেছেন। তার বিশ্বাস, প্রয়োজনের সময়ে দুর্গাদেবী ভক্তদের সব বিপদ থেকে রক্ষা করবেন।