ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
লুটপাটের অভিযোগ

জমি নিয়ে বিরোধে ভৈরবে দোকানপাট-বাড়িঘরে ভাঙচুর

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:১১, ৩ অক্টোবর ২০২৬
জমি নিয়ে বিরোধে ভৈরবে দোকানপাট-বাড়িঘরে ভাঙচুর
ভৈরবের কমলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে পৌর শহরের কমলপুর লোকাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন একটি জমির মালিকানা নিয়ে রুবেল মিয়া ও মুর্শিদ মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। এর মধ্যেই শনিবার দুপুরে একদল লোক ওই এলাকায় গিয়ে কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা কয়েকটি দোকানের মালামাল তছনছ করার পাশাপাশি লুটপাট করে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হাবীব এন্টারপ্রাইজের মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি জমির মালিক রুবেল মিয়ার কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। শনিবার দুপুরে একদল লোক তার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় দোকান থেকে নগদ ১৮ লাখ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, মুর্শিদ মিয়া, কনক মিয়াসহ কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত।

জমির মালিকানা নিয়ে রুবেল মিয়া বলেন, ‘জমিটি আমি নানাবাড়ির সম্পত্তি হিসেবে পেয়েছি। জমির কাগজপত্র আমাদের নামেই রয়েছে। মুর্শিদ মিয়ার সঙ্গে এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। শনিবার দুপুরে মুর্শিদ মিয়া ও কনক মিয়া দলবল নিয়ে এসে জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তারা দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালান।’

তবে রুবেল মিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুর্শিদ মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি জমিটির ক্রয়সূত্রে মালিক। প্রায় দুই বছর আগেও এখানকার দোকানপাটের ভাড়া তুলেছি। রুবেল মিয়া আদালতের ভুয়া রায় দেখিয়ে একদল লোককে প্রতিষ্ঠান ভাড়া দিয়েছেন। পরে আমি জমিটি কনক মিয়ার কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।’

কনক মিয়াও জমিটি বৈধভাবে কেনার দাবি করে বলেন, ‘আমি মুর্শিদ মিয়ার কাছ থেকে জমিটি কিনেছি। এ সংক্রান্ত কাগজপত্রও সঠিক রয়েছে। জমি দখল করতে গেলে মালিকপক্ষের লোকজন আমাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়।’

খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যতটুকু জানতে পেরেছি, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। তবে যেকোনো ঘটনায় হামলা, ভাঙচুর ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ কাম্য নয়। অপরাধীদের শনাক্ত করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভৈরব/এমকে/জেডআই
ট্যাগ: কিশোরগঞ্জ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!