পটুয়াখালীতে বসতবাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগে ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
পটুয়াখালী পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার রাজা মিয়া প্লাজা মার্কেটের ‘মোবাইল হসপিটাল’-এর মালিক জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে তাকে জেলা হাজতে পাঠানো হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেল ৩টার দিকে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার রস্তুম পন্ডিতের গলিতে মাহফুজা বেগমের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে সাতজনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
.png)
এ সময় বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা রড দিয়ে মাহফুজা বেগমকে মারধর করে তার পা ভেঙে দেয় এবং পরিবারের সদস্যদেরও এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠান।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার সময় বসতঘর থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জাহিদ হাসানের সঙ্গে মাহফুজা বেগমের ছেলে রায়হান ইসলামের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরেই পূর্ববিরোধের সূত্র ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর স্বামী ও মামলার বাদী রিয়াজ হাওলাদার বলেন, ঘটনার সময় তিনি ব্যবসায়িক কাজে বাইরে ছিলেন। খবর পেয়ে বাড়িতে এসে স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। তার অভিযোগ, হামলায় তার স্ত্রীর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি একজন সাধারণ সবজি বিক্রেতা উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনায় রিয়াজ হাওলাদার বাদী হয়ে গত ২ অক্টোবর পটুয়াখালী আদালতে মামলা করেন।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার থানায় এলে তাদের প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার প্রধান আসামি জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।