ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পটুয়াখালীতে যুব জামায়াত সভাপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৪৮, ২৯ জুলাই ২০২৬
পটুয়াখালীতে যুব জামায়াত সভাপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভের সন্তান নষ্ট করার গুরুতর অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জামায়াত নেতা পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা মামলাটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে এই নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি ছাড়াও পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

Advertisement

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ওই নারী তার বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এই সুবাদে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম তাকে নানা কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং নিজের বোন দিয়ে দেখাশোনা করানোর কথা বলে গত ২৪ মার্চ সকালে তাকে পটুয়াখালী শহরের শের-ই-বাংলা সড়কের একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে তাকে নানাভাবে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি রাজি না হলে গত ১৮ মে চিকিৎসক দেখানোর কথা বলে তাকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ওষুধ খাওয়ানো হয় এবং পরদিন জ্ঞান ফেরার পর তিনি জানতে পারেন যে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির জানান, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে একাধিকবার ধর্ষণ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।

এদিকে এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান জানান, বিষয়টি যেহেতু বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন, তাই এ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আদালত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবেন এবং সেখানে দোষী প্রমাণিত হলে দলীয় ফোরামে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত আদালতের আদেশের মূল কপি তাঁদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। কপি হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এ আর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!