ঢাকা,  রোববার   ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
সেতু আছে, রাস্তা নেই

৯ কোটি টাকার সেতুতে উঠতে হয় মই বেয়ে

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৪১, ৪ অক্টোবর ২০২৬
৯ কোটি টাকার সেতুতে উঠতে হয় মই বেয়ে
সুতিয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুতে ওঠার সংযোগ সড়ক না থাকায় মই বেয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সীমান্তে সুতিয়া নদীর ওপর প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে সেতু। দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে নির্মিত সেতুটির মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও এখনো তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে সেতু নির্মাণের পরও এর সুফল পাচ্ছেন না দুই উপজেলার হাজারো মানুষ।

সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুতে ওঠার জন্য অস্থায়ীভাবে মাটি ফেলে তৈরি করা হয়েছে খাড়া ঢাল। কোথাও আবার ওঠানামার জন্য বসানো হয়েছে মই। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাটি পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ে। এ অবস্থায় অনেকে পাশের রেলওয়ে সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এ পথ দিয়ে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। সংযোগ সড়ক না থাকায় তাঁদের ভোগান্তির পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Advertisement

এলজিইডি গাজীপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। প্রায় ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এখনো সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সংযোগ সড়কের স্থান থেকে সেতুর উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। সেতুতে ওঠার জন্য ফেলা মাটির ঢালটি অত্যন্ত খাড়া হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন। বৃষ্টির সময় মাটি পিচ্ছিল হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, সেতুর মূল কাজ শেষ হয়েছে। শুধু সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকায় একটি সরকারি, একটি এমপিওভুক্ত ও একটি বেসরকারি স্কুল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। বৃষ্টির সময় নতুন সেতু দিয়ে চলাচল করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

আরেক বাসিন্দা আলতাফ বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জায়গাটি রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের পরও সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী নুসরাত বলেন, আগে জায়গাটি উঁচু থাকায় সেতুতে ওঠা কঠিন ছিল। পরে মাটি ফেলে ও মই বসিয়ে ওঠার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সেটিও নিরাপদ নয়। বাধ্য হয়ে পাশের রেলওয়ে সেতু ব্যবহার করতে হয়, যেটিও ঝুঁকিপূর্ণ। সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা হান্নান শেখ বলেন, সেতুটি শ্রীপুর ও গফরগাঁওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে অবস্থিত। গফরগাঁওয়ের অন্তত আটটি ইউনিয়নের মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। বিভিন্ন এলাকার কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সেতু নির্মাণের পরও ওঠার রাস্তা না থাকায় মানুষকে মই বেয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাজীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। প্রকল্পটি অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার প্রকল্প হওয়ায় এতে জমি অধিগ্রহণের জন্য কোনো অর্থের সংস্থান ছিল না। এ কারণে সারা দেশে এ ধরনের প্রকল্পের কোনো স্কিমেই জমি অধিগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/গাজীপুর/এমকে
ট্যাগ: গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!