কুয়াশায় জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা
ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। চারপাশে হালকা কুয়াশার আবরণ, দূরের গাছপালা ঝাপসা, আর দিগন্তজুড়ে ধূসর প্রকৃতি। কিছুক্ষণ পরেই পূর্ব আকাশে উঁকি দেয় সোনালি সূর্য। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে কোমল আলো। প্রকৃতির এই নীরব রূপেই যেন ধীরে ধীরে জানান দিচ্ছে ঋতুবদলের বার্তা।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে কুয়াশা দেখা দিয়েছে। ভোরে মাঠ-ঘাট, ফসলের জমি, গ্রামীণ সড়ক ও খোলা প্রান্তরে হালকা কুয়াশার আবরণ দেখা যাচ্ছে। সূর্য ওঠার পর ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যাচ্ছে। দিনের বেলায় রোদের উষ্ণতা থাকলেও সন্ধ্যার পর আবার বাড়ছে শীতল অনুভূতি। অনেকে এই কুয়াশাকে শীতের আগমনী বার্তা বলে মনে করছে।
পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকার মো: বাবুল মিয়া বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে ভোরে বের হলে হালকা কুয়াশা দেখছি। তাছাড়া ঠান্ডা বাতাস অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলায় রোদ থাকলেও সন্ধ্যার পর পরিবেশ ঠান্ডা হয়ে যায়। রাতে আগের তুলনায় শীতের অনুভূতিও বেশি। মনে হচ্ছে শীত চলে আসতেছে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, এখনো দিনে অনেক গরম। তবে ভোর ও রাতে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনটা বেশি বোঝা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে শীত ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।
মো: মিনহাজুল ইসলাম রাসেল বলেন, গত দুই দিন ধরে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে বের হওয়ার সময় ঘন কুয়াশা দেখছি। সকালে হাঁটাহাঁটি করতে এক অন্যরকম অনুভূতি পাওয়া যায়। তবে দিনের বেলায় বেশী গরম থাকে আর মাঝ রাতে কিছুটা ঠান্ডা অনুভূত হয়। কুয়াশায় মনে হচ্ছে এবার একটু আগেভাগেই শীতের দেখা মিলবে।
কৃষক মো: মহসিন মিয়া বলেন, ‘ভোরে মাঠে গেলে কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস পাওয়া যাচ্ছে। দিনের বেলায় আবার রোদ ও গরম থাকে। শীতের আমেজ টের পাওয়া যাচ্ছে।
আখাউড়া উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো: ইসমাইল মুন্সী বলেন আসলে ‘ঋতু পরিবর্তনের সময় ভোর ও রাতে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম অনুভূত হতে পারে। এ সময় হালকা কুয়াশা ও শিশিরও দেখা দিতে পারে। তবে ভোরের কুয়াশা ও রাতের শীতল বাতাসে ধীরে ধীরে মিলছে শীতের আগমনী বার্তা।