ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সেনাবাহিনীর পাহারায় সাজেক থেকে ফিরলেন আড়াই হাজারের বেশি পর্যটক

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৪৪, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সেনাবাহিনীর পাহারায় সাজেক থেকে ফিরলেন আড়াই হাজারের বেশি পর্যটক
ছবি: সংগৃহীত

সড়ক অবরোধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের গাড়িবহর খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো শহরে পৌঁছায়। এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন পর্যটকেরা। পথে কয়েকটি স্থানে অবরোধের মুখে পড়লেও নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় তারা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছান।

পর্যটকেরা জানান, সাজেকে চলমান আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। ফেরার পথে কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে পর্যটকদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ঢাকা থেকে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক আবুল কাশেম বলেন, দুই রাত তিন দিনের ভ্রমণে বুধবার সাজেকে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় আন্দোলনের কথা জানতে পারেন। বৃহস্পতিবারই তাদের সাজেক থেকে ফিরিয়ে আনা হয়।

তিনি বলেন, তিন দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন। এখন নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসায় গাড়িভাড়ার বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা নিয়ে চিন্তায় আছেন। এ ছাড়া ঢাকায় ফেরার বাসের টিকিটও দুই দিন পরের। এ নিয়ে বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

অয়ন নামে আরেক পর্যটক বলেন, সেনাবাহিনীর এসকর্টের মাধ্যমে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। পথে দুটি স্থানে প্রায় আধা ঘণ্টা করে অপেক্ষা করতে হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে এসেছে। পথে কয়েকটি স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সড়কে অসংখ্য ভাঙা ইট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। তবে পর্যটকদের কোনো ক্ষতি হয়নি।

হবিগঞ্জ থেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক অপু বলেন, আনন্দ করতে সাজেকে গেলেও সেখানে গিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। বুধবার সাজেকে পৌঁছানোর পর আন্দোলনের কারণে ঠিকমতো ঘোরাঘুরি করতে পারেননি। সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের খবর শুনে নিরাপদে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন।

অপু জানান, ফেরার পথে দুটি স্থানে তাদের গাড়িবহর আটকে পড়ে। বহরের সামনে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি ছিল। অবরোধকারীরা সেনাবাহিনী ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অবরোধকারীদের সড়কের দুই পাশে সরিয়ে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো দ্রুত ওই এলাকা পার করে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে সাজেকে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করে।

অবরোধের নেপথ্যে যে দাবি

সাজেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠন। সংগঠন দুটি ইউপিডিএফের প্রসীত খীসা-সমর্থিত বলে স্থানীয়ভাবে প্রচার রয়েছে।

অবরোধকারী সংগঠনগুলোর দাবি, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন এবং সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এসব সদস্যকে এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জানমাল রক্ষার দাবিতে তারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সড়ক অবরোধ ও আন্দোলনের কারণে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের ভ্রমণ ব্যাহত হয়েছে। অনেককে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসতে হয়েছে। এতে পরিবহন ভাড়া ও ফেরার বাসের টিকিট নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: খাগড়াছড়ি
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!