গোয়ালন্দে পাগলের হামলায় ফজের আলীর পর মারা গেলেন আহত সোনাবান
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় এক ব্যক্তির আকস্মিক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুজনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে একটি মাদ্রাসার রান্নাঘরে হামলায় মাদ্রাসার বাবুর্চি ফজের আলী (৭০) নিহত হন। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন সোনাবান (৭০) নামের এক নারী। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হামলাকারী হিসেবে সেন্টু (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি নাটোর জেলা সদরের ডালা দক্ষিণপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে দৌলতদিয়া আনজুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি ইল হাসান দাখিল মাদ্রাসার রান্নাঘরে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় মাদ্রাসার হোস্টেলের বাবুর্চি ফজের আলী শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার পরিবেশন করছিলেন।
এ সময় সেন্টু সেখানে এসে তাঁর কাছে খাবার চান। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ খাবার আগেই পরিবেশন করা হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত খাবার না থাকায় ফজের আলী তাঁকে বিষয়টি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যক্তি রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠ দিয়ে ফজের আলীর মাথার পেছনে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় ফজের আলীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা সোনাবান। হামলাকারী তাঁকেও এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, গুরুতর আহত সোনাবানকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ফজের আলী রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে। আর সোনাবান দৌলতদিয়া সিদ্দিক কাজিরপাড়ার সাইম উদ্দিন শেখের স্ত্রী।
ঘটনার পর খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্ত সেন্টুকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তির মানসিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য পুলিশি পাহারায় তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর নাম-পরিচয়ও পাওয়া গেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।