ঢাকা,  রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঘটনা

সাড়ে ৩ মাসেও সতেজ কবরের খেজুরের ডাল, বিস্মিত এলাকাবাসী

বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:১৪, ১ নভেম্বর ২০২৬
সাড়ে ৩ মাসেও সতেজ কবরের খেজুরের ডাল, বিস্মিত এলাকাবাসী
বোরহানউদ্দিনে কবরে পুঁতে রাখা খেজুর গাছের ডাল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মৃত্যুর সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেছে। অথচ কবরের পায়ের কাছে পুঁতে রাখা খেজুরের ডালটি এখনো রয়েছে সতেজ। ডালটিতে মেলে আছে নতুন পাতার মতো অংশ। প্রথম দেখায় মনে হবে, এটি কোনো জীবিত খেজুর গাছের চারা। এমন দৃশ্য দেখে বিস্মিত স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা কৌতূহল। খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষও ছুটে আসছেন ডালটি দেখতে। এমন চিত্র দেখা গেছে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের বাথান বাড়ি এলাকার একটি পারিবারিক কবরস্থানে।

জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি জালাল উদ্দিন ওরফে জালু চৌকিদার মারা যান। পরে বাড়ির সামনের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় তার কবরের মাথা ও পায়ের কাছে দুটি খেজুরের ডাল কেটে দুই ভাগ করে পুঁতে রাখা হয়। কিছুদিন পর মাথার কাছে পুঁতে রাখা ডালটি শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। তবে পায়ের কাছে পুঁতে রাখা ডালটি এখনো সতেজ রয়েছে। ডালটিতে নতুন পাতার মতো অংশও দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল বাড়তে থাকে।

মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ চৌকিদার জানান, বাবার মৃত্যুর পর তিনি নিয়মিত কবরের কাছে যেতেন। একপর্যায়ে লক্ষ করেন, মাথার কাছে পুঁতে রাখা খেজুরের ডালটি শুকিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পায়ের কাছে পুঁতে রাখা ডালটি দিন দিন সতেজ হয়ে উঠছে। এখন সেটিকে অনেকটা জীবিত গাছের ডালের মতো দেখাচ্ছে। তিনি আরও জানান, স্বাভাবিকভাবেই ডালটি মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। এরপর সেখানে কোনো পানি, সার কিংবা অন্য কিছু দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় আবুল কালাম, আল আমীন ও ইমরুলসহ অনেকে বলেন, এত দিন পরেও কেটে রাখা খেজুরের ডাল এভাবে সতেজ থাকতে দেখা তাদের জীবনে প্রথম। বিষয়টি সত্যিই অবাক করার মতো। এ কারণেই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ডালটি দেখতে আসছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতি রিয়াজ মাহমুদ। সহিহ বুখারির ১৩৬১ নম্বর হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জানান, কবর দুটির অধিবাসীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। পরে তিনি একটি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে দুই ভাগ করে প্রত্যেক কবরে একটি করে অংশ পুঁতে দেন। সাহাবিরা এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডাল দুটি শুকিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের শাস্তি কিছুটা লাঘব হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এ হাদিসের আলোকে অনেকেই মৃত ব্যক্তির কবরে খেজুরের ডাল পুঁতে রাখেন। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত কৌতূহল বা বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। সব সৃষ্টির মালিক একমাত্র আল্লাহ। পৃথিবীতে তার অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে।

অন্যদিকে, খেজুরের ডাল এভাবে সতেজ থাকার বিষয়টি শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ মণ্ডল। তিনি বলেন, খেজুরগাছের ডাল মাটিতে পুঁতে রাখলে তা থেকে জীবিত গাছ হওয়া বা সতেজ থাকা সাধারণত সম্ভব নয়। বিষয়টি শুনে তার কাছেও অবাক লাগছে। তবে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভোলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!