শিশুকে হত্যার ভয় দেখিয়ে চাচিকে ধর্ষণের অভিযোগ
পাবনার ঈশ্বরদীতে চার বছরের শিশুসন্তানকে হত্যার ভয় দেখিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাতিজার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের একটি হলুদক্ষেতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে তাঁর আপন ভাসুরের ছেলে শিবলু মৃধাকে একমাত্র আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিবলু মৃধা সলিমপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. ইনছান মৃধার ছেলে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে গৃহবধূর স্বামী কাজের সন্ধানে মেহেরপুরের গাংনীর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। দুপুরে ওই গৃহবধূ প্রতিবেশী এক স্বজনের সঙ্গে বক্তারপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মাঠে ছাগল চরাতে যান।
দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্ত শিবলু সেখানে গিয়ে গৃহবধূকে জানান, তাঁর ছোট ছেলের কোমরের নিচের অংশ কেটে রক্ত বের হচ্ছে।
সন্তানের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গৃহবধূ দ্রুত বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে বক্তারপুর মধ্যপাড়া গ্রামের হায়দার নামের এক ব্যক্তির হলুদখেতের কাছে পৌঁছালে শিবলু ধারালো হাসুয়া উঁচিয়ে শিশুটিকে মেরে ফেলার ভয় দেখান। এ সময় তিনি ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, ঘটনার পরপরই তিনি অভিযুক্তের মা ও বোনকে বিষয়টি জানান। তবে তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরে মোবাইল ফোনে স্বামীকে বিষয়টি জানান তিনি। স্বামী মেহেরপুর থেকে বাড়িতে ফিরে পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাতে এক নারী ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একটি দল অভিযান শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী গৃহবধূকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।