ঢাকা,  শনিবার   ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

মারধরের পর সেতুর পাশে ফেলে দেওয়া হয় হাশেমকে, হাসপাতালে মৃত্যু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৫০, ৭ নভেম্বর ২০২৬
মারধরের পর সেতুর পাশে ফেলে দেওয়া হয় হাশেমকে, হাসপাতালে মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে মোহাম্মদ হাশেম (৩৭) নামে এক প্রবাসফেরত ব্যক্তিকে মারধরের পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বরুমতি সেতুর পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী আয়শা আকতারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

৭ নভেম্বর, শনিবার সকালে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বসতঘর থেকে আয়শাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বরুমতি সেতু এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন হাশেম। তাঁর ডান পা থেঁতলে ও ভেঙে গিয়েছিল। এ অবস্থায় বাঁচার আকুতি জানিয়ে তিনি সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের দিকে হাত নাড়ছিলেন। পরে পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাশেমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরোধ চলছিল। বিভিন্ন সময় তাঁকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। গত মাসেও মারধর করে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীসহ পাঁচ থেকে সাতজন মিলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁকে বরুমতি সেতুর পাশে ফেলে যাওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর আগে উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর এলাকার ফুফাতো বোন আয়শা আকতারের সঙ্গে হাশেমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বাবার সম্পত্তি ভাগাভাগির পর নিজের অংশ বিক্রি করে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান হাশেম। সেখানে স্ত্রীর নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন। প্রায় চার বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকার পর এক বছর আগে দেশে ফেরেন তিনি।

চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার জানান, প্রাথমিক তদন্তে হাশেম হত্যাকাণ্ডে তাঁর স্ত্রীর সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্ত্রীসহ পাঁচ থেকে সাতজন মিলে হাশেমকে নির্মমভাবে মারধর করেন। এতে তাঁর ডান পা ভেঙে ও থেঁতলে যায়। নিহতের বাবার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার স্ত্রী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/চট্টগ্রাম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!