বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর মূল্যস্তর উঠে যাওয়ার পর প্রথম দিনের লেনদেনে সূচক কমে যাওয়া অপ্রত্যাশিত নয়। তবে দিন যত গড়াবে পতনের ধারা ততই কমে আসবে এবং বাজার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, রোববার লেনদেন শুরুর প্রথম ১০ মিনিটেই সূচকের ২৪০ পয়েন্ট পতন হয়। পরবর্তী সময়ে মার্কেট আবার একটু ঘুরে দাঁড়ায়। দুপুর ১টা পর্যন্ত সূচক ১৪৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ১৯০ পয়েন্টে।
.png)
এদিন ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯৬.৫০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ২৪০.২৫ পয়েন্টে। আর ডিএস-৩০ সূচক ৭.৪৭ পয়েন্ট ও ডিএসইএস সূচক ১৪.১২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে যথাক্রমে ২ হাজার ১৩৭.১৮ পয়েন্ট ও এক হাজার ৩৭৪.১৬ পয়েন্টে।
রোববার ডিএসইতে ৩৩৯টি কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৪টির, কমেছে ২৯৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৬টি কম্পানির শেয়ারের। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৮৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার।
পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতন দেখা দিলে ২০২২ সালের জুলাই মাসে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দামে ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। দীর্ঘ মেয়াদে ফ্লোর প্রাইস অব্যাহত থাকায় বাজারে গতিশীলতা আনতে তা তুলে নেয়ার দাবি ওঠে নানা মহল থেকে। গত বৃহস্পতিবার থেকে ৩৫টি ছাড়া সব কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয় বিএসইসি।
একইদিন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪৭৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন অংশ নেয়া ২১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫৮টির এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়েছে শীর্ষ ব্রোকার হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন সিইও ফোরাম। রোববার শেয়ারবাজারে বর্তমান অবস্থায় করণীয় নির্ধারণে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সিইও ফোরামের বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়।
সিইও ফোরামের সভাপতি ও ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছায়েদুর রহমান বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগে যাচ্ছে। ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চাই যাতে বাজার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে। তাই বাজার নিয়ে উদ্বেগের তেমন কিছু নেই। শুধু ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের কারণে যাতে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত না হন, বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা সবাই ডিলার অ্যাকাউন্টে ১-৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবো। ডিলার অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো শেয়ার বিক্রি করবো না। বিনিয়োগকারীদের আমরা ইতিবাচকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করবো। যেসব শেয়ারের ক্রেতা থাকবে না, সেখানে বিক্রির আদেশ বসানো হবে না। শেয়ারবাজারকে গতিশীল করার জন্য সবার জায়গা থেকে সহযোগিতা করবেন।