মে মাসে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, খাদ্যে ১১ ছুঁই ছুঁই
কোনো উদ্যোগেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি। চলতি অর্থবছর মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও কোনোভাবেই তা ৯-এর নিচে আনা যাচ্ছে না। চলতি বছরের মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ১১ শতাংশের কাছাকাছি। মে মাসে শহরের তুলনায় মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি ছিল গ্রামে।
সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে,, চলতি বছরের মে মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির এই হার ছিল ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। তবে গত বছরের মে মাসে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল, যা গত ১২ বছরের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ।
মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশের অর্থ হলো ২০২৩ সালের মে মাসে যে পণ্য ১০০ টাকায় কেনা সম্ভব হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসে তা কিনতে হয়েছে ১০৯ টাকা ৮৯ পয়সায়। মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি গ্রামে। গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ হলেও একই সময়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। অন্যদিকে শহরে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।
.png)
এদিকে, গত কয়েক মাসের মতো দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ধারাবাহিকভাবেই বাড়ছে। মে মাসে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয় ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশে, এপ্রিলে যা ছিল ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ। মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৪৪ এবং জানুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
গড় মূল্যস্ফীতির চাপ গ্রামে বেশি থাকলেও খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শহরে বেশি। মে মাসে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ সময় শহরে হয়েছে ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। যদিও আগের মাস অর্থাৎ এপ্রিল মাসে শহরের তুলনায় গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশি ছিল।
খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি এখনো ১০ শতাংশের নিচে। মে মাসে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ হয়েছে, এপ্রিলে যা ছিল ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মে মাসে শহরে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ০৩ শতাংশ, একই সময়ে গ্রামে হয়েছে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ খাদ্য মূল্যস্ফীতি শহরে বেশি হলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেশি হয়েছে গ্রামে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই বছর ধরে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। মূল্যস্ফীতির রাশ টানতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও লাভ হয়নি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখন অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আয় বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার বেশি হলে গরিব ও মধ্যবিত্তরা সংসার চালাতে ভোগান্তিতে পড়ে। গত দুই বছর ধরে চলা এই উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। প্রভাব পড়ছে মানুষের যাপিত জীবনে।