আজ নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে আজ নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৬ প্রান্তিকের জন্য এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, অন্যান্য ডেপুটি গভর্নর, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, মুখপাত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।
.png)
এবারই প্রথম ছয় মাসের পরিবর্তে তিন মাস মেয়াদি মুদ্রানীতি ঘোষণা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দ্রুত পরিবর্তনশীল দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মুদ্রানীতিকে আরও দ্রুত সমন্বয় করতেই এ নতুন কাঠামো চালু করা হয়েছে।
নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি টানা তৃতীয় মাসের মতো কমে ৮.২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে তা এখনো সরকারের নির্ধারিত ৭.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে।
অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি আগস্ট শেষে ৪.৭৫ শতাংশে নেমেছে, যা টানা ছয় মাস ধরে ৫ শতাংশের নিচে। দুর্বল ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগ চাহিদা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের ব্যয় এবং জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ঋণপ্রবাহে এই ধীরগতি তৈরি হয়েছে।
ফলে একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে মূল্যস্থিতি ধরে রাখা, অন্যদিকে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো—দুই লক্ষ্যকে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, এবারের মুদ্রানীতিতে সেটিই বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
এর আগে জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশ করেছিল। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো ছিল ওই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য।