ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিল মার্কিন সেনা
দুই দশকের বেশি সময়ের সামরিক উপস্থিতির পর ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েনের যে অধ্যায় শুরু হয়েছিল, শেষ সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো।
মঙ্গলবার ইরাকে থাকা শেষ মার্কিন সেনারা দেশটি ছেড়ে যায়। এ উপলক্ষে ইরাক সরকার ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ পালন করছে। তবে মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
.png)
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরানের ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে ইরাকে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ইসলামিক স্টেট (আইএস) আবারও সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও সতর্কতা রয়েছে।
ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। তবে এর আগেই শেষ সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দীর্ঘদিনের মোতায়েনের অবসান ঘটল।
২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সঙ্গে ইরাকের সমঝোতার ভিত্তিতে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করা হয়। সে সময় ইরাকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা ছিল। পরবর্তী সময়ে তাদের বড় একটি অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৭ সালে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছিল। ২০১১ সালে বড় পরিসরে সেনা প্রত্যাহারের পর ২০১৪ সালে আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আবারও মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়।
ইরাকের জন্য মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছে দেশটির সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশি সামরিক উপস্থিতি ছাড়াই দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরাকি বাহিনী সক্ষম। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের মার্কিন গোয়েন্দা ও নজরদারি সহায়তা না থাকায় আইএসের মতো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো কঠিন হতে পারে।
ইরাকে ইরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর অনেকগুলো পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হলেও কয়েকটির নিজস্ব কমান্ড কাঠামো ও তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর এসব গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিদায় ইরানে কৌশলগতভাবে সুবিধা তৈরি করতে পারে। কারণ, এতদিন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ইরাকে তেহরানের প্রভাবের বিপরীতে একটি ভারসাম্য হিসেবে কাজ করেছে।
তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে একদিকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা, অন্যদিকে নিরাপত্তা শূন্যতার আশঙ্কা—দুই বাস্তবতার মধ্য দিয়েই নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল ইরাক।