ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ বইয়ে ক্যাটায়ন-অ্যানায়ন

শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:২২, ২০ ডিসেম্বর ২০২১
নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ বইয়ে ক্যাটায়ন-অ্যানায়ন
ছবি: সংগৃহীত

নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ে পাওয়া যাবে ক্যাটায়ন-অ্যানায়ন। সমাজে যেমন টাকা বড় বস্তু, রসায়নের কাছে সেটা হলো ইলেকট্রন। এটাই রসায়নের অর্থনীতির মূল শক্তি। বিয়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য সবই চলে এই ইলেকট্রন দিয়ে। 

সমাজে যারা ইলেকট্রন দেয়নি বা নেয়নি তারা হলো নিরপেক্ষ চার্জযুক্ত পরমাণু। এদের ইলেকট্রন ও প্রোটন সংখ্যা সমান। এদের চার্জ শূন্য; কিন্তু যে পরমাণু ইলেকট্রন দিয়ে দেয় কিংবা নিয়ে নেয়, তাকে বলা হয় আয়ন। 

তোমরা রসায়ন বইয়ে দেখবে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন এবং ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়নের কথা বলা আছে। পরমাণু সমাজে পরমাণু ইলেকট্রন দান করার পর পরিণত হয় ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন। আর যদি ইলেকট্রন গ্রহণ করে তবে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন হয়। সোডিয়ামের কথাই বলি। প্রত্যেক পরমাণুতেই তার পারমাণবিক সংখ্যার সমান সংখ্যক প্রোটন ও ইলেকট্রন থাকে। সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১। অর্থাৎ সোডিয়ামে প্রোটন আছে ১১টি, ইলেকট্রনও ১১টি। তাই পরমাণু অবস্থায় সোডিয়ামের চার্জ হবে শূন্য, কারণ প্রোটন সংখ্যা ও ইলেকট্রন সংখ্যা যোগ করলে মোট চার্জ শূন্য হয়

Advertisement

[১১+(-১১)=০]। ইলেকট্রনের চার্জ ঋণাত্মক বলে আমরা এর চার্জকে ১১ ধরেছি। এখন যদি সোডিয়াম পরমাণুটি একটি ইলেকট্রন দান করে দেয় তবে একটি ইলেকট্রন কমে তার ঋণাত্মক চার্জ হবে ১০। এখন এর মোট চার্জ হবে ১১+(-১০) বা +১। এ জন্যই সোডিয়ামের আয়নের সংকেত Na+। এই ধনাত্মক বা প্লাস চিহ্ন দিয়ে ধনাত্মক আয়ন বোঝায়। রসায়নের ভাষায় এটিই ক্যাটায়ন বা পজিটিভ আয়ন বা ধনাত্মক আয়ন। ধনীর অর্থ দেওয়ার ক্ষমতা আছে। আর ঋণীর আছে নেওয়ার। সোডিয়ামের ইলেকট্রন দেওয়ার ক্ষমতা আছে। তাই এটি আমাদের সমাজে ধনী আয়ন। 

আবার এমন কিছু পরমাণু আছে, যারা ইলেকট্রন গ্রহণ করে। যেমন ক্লোরিন। একটি নিরপেক্ষ ক্লোরিন পরমাণুর ইলেকট্রন ও প্রোটন সংখ্যা সমান। এতে দুই ধরনের কণাই আছে ১৭টি করে। ফলে নিরপেক্ষ অবস্থায় এর চার্জ ০। কিন্তু ক্লোরিন যখন ১টি ইলেকট্রন নেয়, তখন এর মোট চার্জ হয় ১৭+(-১৮)= -১। ইলেকট্রন নিয়ে ঋণগ্রস্ত হয় ক্লোরিন। তাই একে আমি বলি ঋণীর আয়ন। এ জন্য ক্লোরিন অ্যানায়নকে Cl- লেখা হয়। আমাদের সমাজে কে ক্যাটায়ন এবং কে অ্যানায়ন তা সহজেই বুঝে ফেলা যায়। 

ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নরা তাদের সঙ্গে চিহ্ন নিয়ে ঘোরে। আবার চার্জ সংখ্যা থেকে বুঝতে পারি কয়টি ইলেকট্রন গৃহীত বা ত্যাগ করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!