অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান: কোষ বিভাজন
অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ে জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায়ে কোষ বিভাজনের মাইটোসিস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
শুরুর কথা
তুমি ছিলে এইটুকুন, এখন হয়ে গেলে ইয়া বড়। ছোট ছোট হাত-পাগুলো বড় আর শক্তিশালী হচ্ছে প্রতিনিয়ত। লম্বাও হচ্ছো দিনকে দিন। কিভাবে ঘটছে এটা? ত্বকের কথাই ধরো, ওটা কি রাবারের মতো, নাকি যে টানতে টানতে কেউ লম্বা বানিয়ে দিচ্ছে? মোটেই না! ত্বকের মতো বাকি সব দিনে দিনে বড় হচ্ছে একটা প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। তোমার মতো আরো অনেক প্রাণীও কিন্তু একইভাবে বড় হচ্ছে। জন্মের পর থেকে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের এই যে বেড়ে ওঠা, এ প্রক্রিয়ার নামই মাইটোসিস। উন্নত প্রাণী (অ্যামিবা বা ব্যাকটেরিয়া নয়) ও উদ্ভিদের বেড়ে ওঠার পেছনে এই মাইটোসিসই ভূমিকা রাখে।
.png)
একটা কোষ থেকে দুটো হয়, দুটো থেকে চারটা। এভাবে ভাগ হতে হতে বাড়তে থাকে সব; যাকে বলে কোষ বিভাজন। একটা কোষ ভাগ হয়ে হুবহু দুটো হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা ভাগ হওয়ার পর যে দুটো কোষ হয়, বিজ্ঞানীরা সেগুলোকে বলেন ‘সন্তান কোষ’। তোমার পাঠ্য বইতে যাকে ‘অপত্য কোষ’ বলা হয়েছে।
এখন কথা হলো, মাইটোসিস যদি হতেই থাকে তবে কী ঘটবে? ২টা থেকে ৪টা, ৪টা থেকে ৮টা—এভাবে চলতে থাকলে তো অল্প কদিনেই তোমার সাইজ হয়ে যাওয়ার কথা পাহাড়ের মতো; কিন্তু সেটা হচ্ছে না। আবার ধরো, এ প্রক্রিয়া যদি আমাদের মগজের কোষে চলতেই থাকত? তা হলে আমাদের মগজ হয়ে যেত বিশাল বড় আর আমরা হয়ে যেতাম এখনকার চেয়েও আরো বুদ্ধিমান; কিন্তু সেটাও হচ্ছে না। সুতরাং প্রাণীর সব কোষেই যে মাইটোসিস হবে এমন কথা নেই। এটারও কিছু সীমারেখা আছে। যেমন—আমাদের স্নায়ুকোষ, পরিণত লোহিত রক্তকণিকা, অনুচক্রিকা, উদ্ভিদের স্থায়ী টিস্যু—এসব কোষে মাইটোসিস হয় না।
একটা কোষ ধীরে ধীরে দুটো হওয়ার যে প্রক্রিয়া, ওটাকে রীতিমতো একটা বুদ্ধিমান যন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা যায়। যে যন্ত্র নিজেই জানে কী করে সহজে নিজেকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে নিতে হবে। প্রক্রিয়াটা ঘটে ধাপে ধাপে। একটি ধাপ সম্পন্ন হলেই পরের ধাপ শুরু। পুরো প্রক্রিয়াটাকে প্রাথমিকভাবে দুটো ভাগে ভাগ করা হয়—ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোকাইনেসিস। ভাগাভাগির খুঁটিনাটি কাজগুলো হয় ক্যারিওকাইনেসিস ধাপেই। এ ধাপের প্রথম ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার নাম প্রফেজ। এরপর প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ।