গবেষণায় তথ্য চুরির অভিযোগ, তবুও পেলেন পদোন্নতির সুপারিশ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পিএইচডি গবেষণায় তথ্যচুরির অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে অভিযোগ আমলে না নিয়ে ওই শিক্ষকের পদোন্নতির সুপারিশ করেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম দীনবন্ধু পাল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। পদোন্নতির পেয়ে অধ্যাপক হয়েছেন। দীনবন্ধু পালের বিরুদ্ধে গবেষণায় তথ্য চুরির অভিযোগ আনেন একই বিভাগের অধ্যাপক অসীত রায়।
বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ড. অসিত রায় গত বছরের ২৮ নভেম্বর তথ্য চুরির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য লিখিত আবেদন করেন।
.png)
অসিত রায় তার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ‘উচ্চাঙ্গসংগীতে তবলা বাদনের নান্দনিকতা’ শিরোনামে বিভাগের শিক্ষক ড. কৃষ্ণপদ মন্ডলের তত্ত্ববধানে দীনবন্ধু পাল এই পিএইচডি থিসিস রচনা করেছেন। ড. কৃষ্ণপদ মন্ডল নিজে তার পিএইচডি থিসিস থেকে চৌর্যবৃত্তি করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন থেকে ‘বাংলার রাগসংগীত- দ্বিতীয় খন্ড’ গ্রন্থ প্রকাশ করেন এবং তা প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পদোন্নতি স্থগিতসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই ব্যাপারে ইউজিসি-ও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
আরো পড়ুন: পদত্যাগ করলেন শাবিপ্রবির সেই প্রভোস্ট
এছাড়া ড. কৃষ্ণপদ মন্ডলের তত্ত্বাবধানে ড. প্রদীপ কুমার নন্দী ও ড. তপন কুমার সরকার যে অভিসন্দর্ভ প্রদান করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন, উভয় থিসিসে বহু জায়গায় চৌর্যবৃত্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এর মধ্যে ড. নন্দীর থিসিসটি গ্রন্থাকারে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে ৫০ এর অধিক পৃষ্ঠায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় সেই গ্রন্থটিও ইউজিসি থেকে বাতিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে ড. অসীত রায় আরো উল্লেখ করেন, ড.দীন বন্ধু পালের পিএইচডি গবেষণার ১১৩ নম্বর পাতায় করুণাময় গোস্বামীর সংগীত কোষ থেকে হুবহু তুলে দিয়েছেন। অথচ তিনি এটিকে ভাষান্তর বলে উল্লেখ করেছেন।
একই রকম আরো ছয়টি জায়গায় দীনবন্ধু পালের গবেষণাকর্মের চৌর্যবৃত্তির কথা উল্লেখ করে অসিত রায় বলেন, দীনবন্ধু পাল তার পিএইচডি থিসিসে নানা অসদুপায় অবলম্বন করেছেন। এই ধরনের কাজ শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মান সম্মানকে ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন করছে এমন নয় বরং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অবনমিত করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ ড. দীনবন্ধু পালের পিএইচডি থিসিস সুষ্ঠুভাবে তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।
আরো পড়ুন: খেলার মাঠ পেলো বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রীরা
এদিকে এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আমলে না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১০তম সিন্ডিকেট সভায় দীনবন্ধু পালকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে অভিযোগকারী শিক্ষক অসিত রায় বলেন, কোন কোন জায়গায় তিনি চৌর্যবৃত্তি করেছেন সেটি উল্লেখ করেই আমি অভিযোগ করেছিলাম। আমার অভিযোগ সঠিক কি না, তা তদন্ত করে দেখার সুযোগ ছিলো। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সেটি আমলেই নেয়া হয়নি।
এবিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, একটি অভিযোগ এসেছিল। তবে এটি আমলে নেয়া হয়নি। কেন আমলে নেয়া হয়নি সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে ড. দীনবন্ধু পাল বলেন, পিএইচডি হয় একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এর জন্য সেমিনার করতে হয়। এছাড়া অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে কমপক্ষে তিনশত অধ্যাপকের উপস্থিতিতে এটি পাশ হয়। আমি এগার বছর আগে এই পিএইডি করেছি। অন্য ৫ জন শিক্ষক যেভাবে পিএইচডি করে আমিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক সেভাবে পিএইচডি করেছি। এই পিএইচডির মাধ্যমে আমি সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক হয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, সিন্ডিকেটে অভিযোগের বিষয়টি আসেনি। এখানে পদোন্নতি ফাইল এসেছিল। সেটি প্রক্রিয়া করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অভিযোগটি আলাদাভাবে দেখা হবে।