দুই শতাধিক আসন ফাঁকা রেখে ভর্তি বন্ধ, মানববন্ধনে ভর্তিচ্ছুরা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন ফাঁকা রেখেই ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। স্নাতক প্রথমবর্ষে দুই শতাধিক আসন ফাঁকা রেখে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।
গত ১৬ মার্চ বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর।
এ দিকে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে ২ দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়। এরপর মানববন্ধনকারীদের পক্ষ থেকে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
.png)
মানববন্ধনকারীদের দুই দফা দাবি হলো- পুনরায় ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে ফাঁকা আসনগুলো অতি শিগগিরই পূরণ করা হোক এবং পুনরায় মাইগ্রেশন চালু করা হোক।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী হাবিব বলেন, অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ভর্তির সুযোগ আছে। সেখানে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র দুইটি মেধাতালিকা দিয়েই ভর্ত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। আমরা এই সিদ্ধান্তের পরিবর্তন দেখতে চাই। অতি দ্রুত আমাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে হবে।
এরপর ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.সৌমিত্র শেখর দে বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, আমরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের সাধারণ শিক্ষার্থী। ভর্তি কার্যক্রমে ২০০ এর অধিক আসন ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও ভর্তি কার্যক্রম এবং মাইগ্রেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যার ফলে নতুন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারছে না। ফলক্রমে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা হতাশায় ভুগছে। তাই পুনরায় ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে ফাঁকা আসন পূরণ করা এবং মাইগ্রেশন চালু করার জন্য অনুরোধ করা হলো। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে নিম্নোক্ত দাবিগুলো পূরণ করতে প্রশাসন অনতিবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করছি।
উল্লেখ্য, প্রথমবারের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় দেশের গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়। এ তালিকায় ছিলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে তাদের এই ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। ভর্তি পরীক্ষা শেষে ত্রিশালের এই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদে সর্বমোট এক হাজার নব্বইটি আসনের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। দুইবার মেধাতালিকা প্রকাশ ও কোটায় ভর্তির পরও প্রায় দুই শতাধিক আসন ফাঁকা আছে বলে নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার।