বাসের সুপারভাইজারকে পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) মূল ফটকের সামনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এম.এম ট্রাভেলসের একটি বাসের সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে আসা এম.এম ট্রাভেলসের একটি বাস পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থামে। বাসের ভেতর এক যাত্রীর সঙ্গে ভাড়া নিয়ে সুপারভাইজারের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর ওই যাত্রী সুপারভাইজারকে বাস থেকে বাইরে বের করে নিয়ে আসেন। তাকে ধরে পাবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই যাত্রীর সঙ্গে যোগ দেয় আরো তিন থেকে চারজন। এরপর সবাই মিলে আবার মারধর করা হয় ওই সুপারভাইজারকে। সবশেষে জানা গেলো বাসে থাকা ওই যাত্রী পাবিপ্রবির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় বাসের চালক বাস আড়াআড়ি করে রাস্তার উপর রেখে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাসের দুটি গ্লাস ভেঙে দেয়।
মারধরের স্বীকার বাস সুপারভাইজার আবদুল বারেক আসলাম (৪৮) জানান, সিরাজগঞ্জে ফুড ভিলেজে কেন যাত্রাবিরতি হয়েছে সেটা নিয়ে আমার সঙ্গে তর্ক করে। এরপর যাত্রী নামানোর সময় বাসের লাইট জ্বালানো হলে ঐ শিক্ষার্থীর ঘুমে ডিস্টার্ব হচ্ছে বলে আমার সঙ্গে রাগারাগি করে। কিন্তু যাত্রী নামানোর সময় আমাদেরকে বাসের লাইট জ্বালাতেই হয়।
.png)
বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌঁছে আগে ঐ শিক্ষার্থী তার কয়েকজন বন্ধুকে ফোন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে নিয়ে আসে। এরপর আমাকে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে পুনরায় মারধর করে।
এই ঘটনা নিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হাসিবুর রহমান জানান, এই ঘটনা কারা ঘটিয়েছে তার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত অপরাধী কারা তাদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
এ নিয়ে পাবনা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতোই কিন্তু যারা শ্রমিকদের গায়ে হাত তুলে তারা শিক্ষার্থী হতে পারে না। যেসব শিক্ষার্থী আমার শ্রমিকের গায়ে হাত তুলেছে আমি তাদের বিচার চাই। আমরা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। যদি ১২ ঘণ্টার ভেতরে ঐ শিক্ষার্থীদের আইনের আওতায় না আনা হয় তাহলে আগামীকাল থেকে সকল প্রকার মটরযান বন্ধ করে দিয়ে ধর্মঘট শুরু হবে।
পাবনা সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তার বের করার জন্য আমরা তদন্তে নেমেছি। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে আশা করি আমরা তাদের খুঁজে পাবো। বিকেলে পুলিশ প্রশাসন, মোটরশ্রমিক ইউনিয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটি নিয়ে মিটিংয়ে বসবেন। আশা করি এই ঘটনার সুষ্ঠু একটা সমাধান হবে।