বাংলাদেশে হাতে গোনা কয়েকটি নাগলিঙ্গম গাছ রয়েছে, যার মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে একটি।
১৯৯৮ সালে চবি জাদুঘরের ২৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এই গাছটি রোপণ করেন তৎকালীন জাদুঘরের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামসুল হোসাইন।
.png)
গাছের গুড়ি থেকে ফুল ফোটা শুরু। গুড়ি ফুঁড়ে বের হয়েছে ছড়া। রঙিন আভা ছড়ানো ফুলগুলোও বেশ বড় বড়। নিচের সবুজ ঘাস ঢেকে আছে ঝরে পড়া লাল, গোলাপি ও হলুদের মিশ্রণের নাগলিঙ্গম ফুলে। চারপাশ জুড়ে প্রজাপতি, পাখিদের উড়াউড়ির দৃশ্য প্রকৃতির সঙ্গে মনকে প্রফুল্ল করে তুলবে।

জন মুরের ভাষায়, যখন আমি প্রকৃতির কাছে যাই, মনটাকে হারিয়ে ফেলি, খুঁজে পাই আমার আত্মাকে।
নাগলিঙ্গমকে বলা হয় ফুলের রানী। যার বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita Guianensis. ফল কামানের গোলার মতো হওয়ায় এই গাছ ইংরেজদের কাছে Cannonball Tree নামে পরিচিত। Cannonball অর্থ কামানের গোলা।
নাগলিঙ্গমের ফুলফোটে গাছের গুড়ি থেকে। গুড়ি ফুঁড়ে বের হয় ছড়া। আর এই ছড়া থেকেই ফুটে অনিন্দ্য সুন্দর নাগলিঙ্গম। পাপড়ি, রেণু, ফুলের রং,আভিজাত্য, মঞ্জুরি, গঠনশৈলী- সবকিছু মিলিয়ে একে অনন্য করে তুলেছে।
চবি শিক্ষার্থী সুমন দাস বলেন, প্রথম বর্ষে থাকার সময় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নাগলিঙ্গম গাছ আছে জানতে পারি। তবে তখন দেখতে গিয়ে ফুল বা ফল কিছুই পাইনি। অনলাইন ঘেঁটে জানতে পারি সারাদেশে মাত্র কয়েকটি গাছ আছে তারমধ্যে ছবিতেও একটি। গতমাসে আবার গেলাম। দেখলাম নিচের পুরো অংশ জুড়ে ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে আছে। অনিন্দ্য সুন্দর নাগলিঙ্গম ফুল। এক কথায় দেখতে অসাধারণ! কাছে থেকে বেশ মজাদার সুগন্ধি পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হারুক-উর-রসীদ বলেন, নাগলিঙ্গম গাছটি বিদেশি। আমাদের দেশে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি গাছ আছে। এই গাছের ইংরেজি নাম ‘Cannonball Tree’ এবং বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita guianensis, যা Lecythidaceae পরিবারভুক্ত। এর আদি নিবাস আমাজান ও মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল।
তিনি আরো বলেন, বিরল প্রজাতির গাছটিতে বছরের জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত গাছে ফুল শোভা পায়। নাগলিঙ্গম গাছের রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। এর ফুল, পাতা ও বাকলের নির্যাস থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি করা হয়। চবিতে বড় একটি গাছ আছে। এ মাসে আমাদের বিভাগের পক্ষ থেকে আরেকটি গাছ লাগানো হয়েছে।